সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Unhealthy-Food.jpg

স্বাস্থ্যতথ্য মানুষের জন্য অত্যাধিক ক্ষতিকর কিছু খাবার

কিছু বিপদজনক খাবারের ঝুঁকি শুধুমাত্র বেশি লবন আর ফ্যাট থাকার মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই। কিছু খাবার আছে যেগুলো নিয়মিত খাওয়ার ফলে তা আপনাকে ধীরে ধীরে নিশ্চিত মৃত্যুর কাছে নিয়ে যাবে।

আমরা না জেনেই অনেক সময় এমন কিছু খাবার খাই যেগুলো আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অস্বাস্থ্যকর খাবার সাধারণত ছোট থেকে শুরু করে বয়স্ক সবারই প্রিয় থাকে। আর এটাও ঠিক যে এসব খাবার খাওয়া বন্ধ করাও বেশ কষ্টকর কাজ।

তবে কিছু বিপদজনক খাবারের ঝুঁকি শুধুমাত্র বেশি লবন আর ফ্যাট থাকার মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই। কিছু খাবার আছে যেগুলো নিয়মিত খাওয়ার ফলে তা আপনাকে ধীরে ধীরে নিশ্চিত মৃত্যুর কাছে নিয়ে যাবে।

এখানে কিছু ক্ষতিকর খাবারের কথা জানানো হলো:

মশলা হিসেবে ঝাল মরিচ:
মজাদার যেকোনো রান্নায় মরিচ একটি অন্যতম উপাদান। সব ধরনের মরিচের ঝাল capsaicin নামক একটি উপাদানের কারনে হয়ে থাকে। এই ক্ষার জাতীয় উপাদানটি মানব অঙ্গের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই আজকাল আত্মরক্ষার জন্য বেশ কিছু স্প্রে (পিপার স্প্রে) তৈরি হচ্ছে। এমনকি কিছু দেশের সামরিক বাহিনী চিলি গ্রেনেড পর্যন্ত তৈরি করছে। এসব গ্রেনেডের মূল উপাদান হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম ঝাল মরিচগুলো। 

capsaicin নামক উপাদানটি অত্যাধিক গ্রহন করলে তা মারাত্মক বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে। যদি কম পরিমানে মাঝে মাঝে খাওয়া হয় তাহলে তা এতটা ক্ষতিকর না। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত অত্যাধিক পরিমানে এসব ঝাল মরিচ খাওয়া হলে তা ধীরে ধীরে পাকস্থলীকে নষ্ট করে দিতে পারে এবং ক্যান্সারের কোষ সৃষ্টিতে সাহায্য করতে পারে।

হটডগ, সসেজ:
আজকাল ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বড়রাও হটডগ, সসেজ এগুলোর খুব ভক্ত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই খাবারগুলো মারাত্মক ক্ষতিকর খাবার। এই প্রক্রিয়াজাত করা খাবারের অনেক গুলোর প্যাকেটে লিখা থাকে রান্নার প্রয়োজন নেই, আবার কোনো খাবার স্বল্প সময় রান্না করতে হয়। তাই এসব হটডগ বা সসেজ খাওয়ার ফলে listeria moncytogenes নামক ব্যাক্টেরিয়ার কারনে সংঘটিত listeriosis নামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। 

প্রক্রিয়াজাত করা খাবার খাওয়ায় আক্রান্ত হওয়া এসব ইনফেকশন খুবই মারাত্মক। এর ফলে বিষক্রিয়া, মেনিনজাইটিস এবং অন্যান্য গুরুত্বর জটিলতা হতে পারে। আমিরিকান ইন্সটিটিউট অফ ক্যান্সার রিসার্চের গবেষণায় দেখা যায় যে প্রতিদিন যদি ৫০ গ্রাম করে প্রক্রিয়াজাত করা মাংস খাওয়া হয় তাহলে কোলন ক্যান্সার হবার ঝুঁকি প্রায় ২১% বেড়ে যায়।

চিপস এবং ফ্র্যাঞ্চ ফ্রাই:
সারা বিশ্বেই সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি খাবার হচ্ছে এই চিপস তবে একই সাথে বলা যায় যে এগুলো সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর খাবারও বটে। এই স্ন্যাক্স গুলোর সমস্যা হচ্ছে এগুলো তৈরির প্রক্রিয়া এবং ব্যবহৃত মশলার জন্য।

আলু সাধারণত একটি স্বাস্থ্যকর সবজি যা খাবার তালিকায় নিয়মিত থাকা উচিত। ফ্র্যাঞ্চ ফ্রাই ফাস্ট ফুডের অন্যতম একটি উপাদান। ফাস্ট ফুডের মাঝে থাকা ফ্যাট স্থুলতার একটি প্রধান কারন। কারন দেহের ফ্যাটের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে বেশি পরিমান ফ্যাট জাতীয় খাবার খেলে তা আলঝেইমার রোগ, ডায়াবেটিস এবং বিষণ্ণতার ঝুঁকি বাড়ায়।

সালাদ ও অন্যান্য কাঁচা ফল ও সবজি:
সালাদ সাধারণত যারা স্বাস্থ্যসচেতন এবং যারা ওজন কমাতে চান তাদের প্রথম এবং প্রধান পছন্দ। তবে অনেকেই জানেন না যে অনেক স্বাস্থ্যকর ফল ও সবজিই Escherichia coli বা সংক্ষেপে E.coli এর উৎস।

সাধারণত তাজা ফল এবং সবজি, সীফুড, কম পাস্তুরাইজড দুগ্ধ জাতীয় খাবার এবং দূষিত পানির মাধ্যমেই এই মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। এই ব্যাক্টেরিয়ার ইনফেকশন অনেক মারাত্মক হতে পারে। এটি দেহে বিষাক্ত পদার্থ নিঃসৃত করে পাকস্থলীর আবরণ ক্ষতিগ্রস্থ করে, ডায়রিয়া এবং রক্তপাতের কারন হতে পারে।

৫ বছরের নিচের শিশু অথবা দুর্বল প্রতিরোধক ক্ষমতার মানুষেরা মারাত্মক প্রদাহসহ কিডনির সমস্যায়ও আক্রান্ত হতে পারে। তাই ফল ও সবজি খাওয়া তো বন্ধ করা যাবে না। খাবার আগে খুব ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

-
লেখক: জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ; এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্‌থ; খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান (স্নাতকোত্তর) (এমপিএইচ); মেলাক্কা সিটি, মালয়েশিয়া।

তথ্যসূত্র: হেলদি ফুডস্টার


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

খাবার, ক্ষতিকর, চিপস, ফ্রেঞ্চ-ফ্রাই, ঝাল, হটডগ, সসেজ, ফল, সবজি, ব্যাকটেরিয়া, স্বাস্থ্যকর