সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Baby-Constipation.jpg

জেনে রাখুন শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধের কিছু উপায়

মনে রাখতে হবে যে এক থেকে তিন বছরের বাচ্চাদের মাঝে কোষ্ঠকাঠিন্য খুবই সাধারন একটি ব্যাপার এবং কোনো জটিল রোগ নয়। এর কারন হচ্ছে অনুপযুক্ত খাদ্য এবং অন্ত্রের নড়াচড়ার অভাব।

প্রতিটি বাচ্চাই নতুন জিনিসের সাথে অভ্যস্থ হতে একটু সময় লাগে। সময়ের সাথে সাথে সে সব কিছুর সাথেই নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়। তাই বাচ্চার মা বাবাদের ব্যাপার গুলো নিয়েও খুব দুশ্চিন্তার মাঝে পড়তে হয়।

বেশির ভাগ বাচ্চাদের ক্ষেত্রেই কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ সমস্যা। বেশি সমস্যায় পরতে হয় যখন শিশু নতুন বা শক্ত খাবার শুরু করে। যখনই সে ব্যাথা পায় পরবর্তী সময়ে সে টয়লেটে যাওয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে। এতে অনেক বাবা মা ই চিন্তিত হয়ে পরেন। তবে মনে রাখতে হবে যে এক থেকে তিন বছরের বাচ্চাদের মাঝে কোষ্ঠকাঠিন্য খুবই সাধারন একটি ব্যাপার এবং কোনো জটিল রোগ নয়। এর কারন হচ্ছে অনুপযুক্ত খাদ্য এবং অন্ত্রের নড়াচড়ার অভাব।

তাই একটু লক্ষ্য রাখতে হবে বাচ্চারা সঠিক ভাবে টয়লেটে যাচ্ছে কিনা। এক থেকে তিন বছরের বাচ্চাদের দিনে একবার পায়খানা করা নিয়মিত এবং স্বাভাবিক। অনেক সময় বাচ্চার নড়াচড়ার উপর ভিত্তি করে ১ দিন পরপর করলে সেটাও স্বাভাবিক। কিন্তু যদি সময়টা এর চেয়ে বেশি লম্বা হয় তাহলে অবশ্যই নজর দিতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে ব্যাথা হয় বলে বাচ্চারা আটকে রাখতে চায় এবং টয়লেটে যেতে চায় না এতে ফল আরো খারাপ হয়। 

সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ হচ্ছে পায়খানা শক্ত হওয়ায় পাশাপাশি বমি, পেট ব্যাথা, পেট ফাঁপা ইত্যাদি থাকতে পারে। তাই বাচ্চাদের খাবারের দিকে সবসময় নজর রাখতে হবে। এমন কোনো খাবার যেন না খায় যা কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করতে পারে। খুব ভারী এবং প্রক্রিয়াজাত করা খাবার না দিলে এই সমস্যা থেকে অনেকটা দূরে থাকা যায়।

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে এখানে কিছু উপায় উল্লেখ করা হলো:

  • স্বাস্থ্যকর খাবার: শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে স্বাস্থ্যকর খাবার খুবই প্রয়োজনীয়। আঁশ সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে দিতে হবে। তাদেরকে এমন খাবার দিতে হবে যেগুলো স্বাস্থ্যকর, সহজে হজম হয় এবং মজাদার। শাকসবজি ও ফল রাখতে হবে তার খাবারে। আকর্ষণীয় করে সাজিয়ে দিলে শিশুদের খাবারে আগ্রহ বাড়বে এবং সে খাবার বাদ দিতে চাইবে না। আঁশ জাতীয় খাবার দেয়ার পাশাপাশি তাদের সঠিক পারিমান পানি খাওয়াতে হবে। কারন পানি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে বেশ ভালো ভূমিকা রাখে।
  • শিশুদের পেট নরম করার ব্যবস্থা করুন: শিশুদের লেক্সেটিভ বা পায়খানা নরম করার ঔষধ দিয়ে হলেও কোষ্ঠকাঠিন্যে দূর করার চেষ্টা করুন। এসব খুব সহজেই কাজ করে এবং নিরাপদও। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়াবেন এবং পুরো ডোজ শেষ করবেন। কোষ্ঠকাঠিন্যে ভালো হওয়ার সাথে সাথেই হঠাৎ করে ঔষধ বন্ধ না করে আস্তে আস্তে বন্ধ করুন।
  • শারীরিক কার্যক্রম: যে কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রেই শারীরিক কার্যক্রম ভাল স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই শিশুরাও এর ব্যতিক্রম নয়। শিশুর জন্য কিছু শারীরিক ব্যায়াম রয়েছে। হাত পা নাড়াচাড়া করে খেলছে কিনা সেদিকে নজর রাখুন। শিশু সারাদিন যদি শুয়ে বসে কাটায় তাহলে তার নড়াচড়া কম হবে। সারাদিনে কমপক্ষে ১ ঘন্টা হলেও শিশুর শারীরিক কার্যক্রম না হলে অন্ত্রে নড়াচড়াও স্বাভাবিকভাবে হবে না। তাই এই ব্যাপারে অবশ্যই খেয়াল রাখুন।
  • ঔষধের প্রতি খেয়াল রাখুন: সাধারন জ্বর, সর্দি, কাশি বা যেকোনো রোগের  জন্য বাচ্চাকে ঔষধ দিতেই পারেন তবে অবশ্যই তা ডাক্তারের পরামর্শ ক্রমে দেবেন। তবে খেয়াল রাখুন কোনো ঔষধের কারনে শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হচ্ছে কিনা। যদি হয় তাহলে তা বন্ধ করুন এবং ডাক্তারকে জানান। এছাড়া ডাক্তারের কাছ থেকে কোষ্ঠকাঠিন্যের এমন কিছু ঔষধের পরামর্শ নিন যা বাচ্চার উপর ভালো কাজ করে এবং হঠাৎ করে সেটা বন্ধ করে দেবেন না। কমাতে হলে আস্তে আস্তে ডোজ কমিয়ে তারপর বন্ধ করুন।
  • সুশৃঙ্খলতা বজায় রাখা: সামান্য শৃঙ্খলতা বজায় রাখার মাঝেও বেশ জাদুকরি ক্ষমতা থাকে। টয়লেটে যাওয়ার একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দিন। এবং সেই সময়ে তাকে প্রতিদিন টয়লেটে নিয়ে যান বা যেতে বলুন এবং মুখে বলুন এখন টয়লেটে যাওয়ার সময়। যার ফলে সে এই নিয়মে অভ্যস্থ হবে।

উপরোক্ত উপায় গুলো মেনে চলতে পারলে অবশ্যই শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য বেশ ভাল ভাবে কমানো সম্ভব। শিশুর অভিভাবককেই খুজে বের করতে হবে কোন উপায় গুলো তাদের শিশুর জন্য ভাল কাজ করে। কোন বাচ্চা যদি খুব বেশি আঁশ জাতীয় খাবার না খায় কিন্তু তার পায়খানা নরম থাকে তাহলে চিন্তার কিছু নেই।

আবার দেখা যায় পায়খানা নরম করার ঔষধ এবং উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার খেয়েও সঠিক শারীরিক কার্যক্রমের অভাবে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। কোন শিশুর ক্ষেত্রে এমন নয় যে সব গুলো উপায় অবলম্বন করতে হবে আবার কারো ক্ষেত্রে হয়তো সব গুলোই চেষ্টা করে দেখতে হবে।

-
লেখক: জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ; এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্‌থ; খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান(স্নাতকোত্তর)(এমপিএইচ); মেলাক্কা সিটি, মালয়েশিয়া।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

শিশু, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রতিরোধ, অনুপযুক্ত-খাদ্য, আঁশযুক্ত-খাবার, অন্ত্রের-নড়াচড়া, শক্ত-খাবার, টয়লেট, স্বাস্থ্যকর-খাবার, ঔষধ, সুশৃঙ্খলতা, শারীরিক-কার্যক্রম