সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Snake-Carbolic-Acid.jpg

জেনে রাখুন সাপ কামড়ালে করণীয় ও সাপ তাড়ানোর উপায়

বাসা-বাড়িতে যাতে সাপ ঢুকতে না পারে সেজন্য একটি কাঁচের বোতলে কার্বলিক এসিড বা ফেনল নিয়ে তার মুখ খুলে রাখুন। সাপ এই এসিডের গন্ধ সহ্য করতে পারে না। তাই আর আসবে না। অনেকে বাড়ির চারপাশে ছিটাতে বলেন। এটা ঠিক নয়। কারণ চারপাশে ছিটালে বাড়ির ভিতরে কোন সাপ থাকলে তা বের হবে না।

আমাদের দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি বৃষ্টিপাত আছেই। বৃষ্টির সময় শুধু উত্তরাঞ্চলে নয় দেশের সর্বত্রই সাপের উপদ্রপ বেড়ে যেতে পারে। বিষাক্ত সাপের কামড়ে মৃতের সংখ্যা কিন্তু কম নয়! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর ৮৩ হাজার লোক সাপের দংশনের শিকার হন। যার মাঝে ১১ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে।

বাংলাদেশে প্রায় ৯০ প্রজাতির সাপ আছে। তবে সব প্রজাতিই বিষাক্ত নয়। মাত্র ২৭ টি প্রজাতি বিষধর বলে জানা যায়। যেহেতু সব সাপই বিষাক্ত নয় তাই কামড়ালে ভীত হওয়া যাবে না। ডাক্তারদের মতে প্রাথমিক পর্যায়ে বিষ ছড়ানো বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নিতে পারলে বিষাক্ত সাপের কামড় থেকেও রোগীকে বাঁচানো যায়।

চলুন জানা যাক প্রাথমিক ব্যবস্থাগুলো:
  • সাপে কামড়ানো রোগীকে সাপ থেকে দূরে সরিয়ে নিবেন এবং তাকে সাহস দিবেন।
  • সাপটি দেখতে পেলে তা কোন প্রজাতির তা চিনতে চেষ্টা করতে পারেন।
  • আক্রান্ত স্থানটি সাবান দিয়ে পরিষ্কার করবেন না। গোবর লাগাবেন না।
  • কামড়ের স্থানে বা কাছে কোন গহনা পড়া থাকলে তা খুলে ফেলুন।
  • জুতা পড়া থাকলে তা খুলে দিবেন। কাপড় ঢিলেঢালাভাবে পড়ান।
  • কামড়ের স্থান থেকে কিছুটা উপর বেঁধে দিন। গজ বা দঁড়ি না থাকলে গাছের বাকল, কাগজ, ব্যাগের ফিতা ইত্যাদি দিয়েই বাঁধন দিন। এরপর দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিন। বাঁধন খুবই শক্ত করা যাবে না।
  • রোগীকে বা আক্রান্ত অঙ্গটিকে বেশি নাড়াচাড়া করবেন না।
  • রোগীকে হাঁটতে দিবেন না। কারণ এতে মাংসপেশীর সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে দ্রুত বিষ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • রোগীকে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এসপিরিন বা কোন ব্যথানাশক ঔষধ দিবেন না।
  • মুখ দিয়ে বিষ টেনে তোলার চেষ্টা করবেন না। এটা সিনেমায় দেখানো একটি ভ্রান্ত ধারণা মাত্র। এতে স্নায়ু ও রক্তনালীসমূহের ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়া মুখে থাকা জীবাণুর সংক্রমন ঘটতে পারে।

সাপ তাড়ানোর উপায়:
বন্যা বিধৌত বাসা-বাড়িতে যাতে সাপ ঢুকতে না পারে সেজন্য একটি কাঁচের বোতলে কার্বলিক এসিড বা ফেনল নিয়ে তার মুখ খুলে রাখুন। সাপ এই এসিডের গন্ধ সহ্য করতে পারে না। তাই আর আসবে না। অনেকে বাড়ির চারপাশে ছিটাতে বলেন। এটা ঠিক নয়। কারণ চারপাশে ছিটালে বাড়ির ভিতরে কোন সাপ থাকলে তা বের হবে না।

কিছু কথা:

  • গ্রামাঞ্চলে বন্যায় বিস্তৃত মাঠের উপর বা আপনার বাড়ির পাশের কোন পরিত্যাক্ত ভিটায় ঝোপঝাড়যুক্ত জায়গা ভেসে থাকতে পারে। সেসব স্থানে সাপকে আশ্রয় নিতে দিন। যেখানে আপনারা যাবেন না সেখানে কার্বলিক এসিড ছিটাবেন না। সাপ খুবই উপকারি প্রাণি। এরা খুব সহজে কামড়ায় না। পরিবেশ রক্ষায় এদের বাঁচতে দিন।
  • সাপ কামড়ালে ওঝা বা কবিরাজের কাছে যাবেন না। কারণ যদি সত্যিকারই বিষাক্ত সাপ কামড়ায় তবে ঝাঁড়ফুঁতে বিষ নষ্ট হবে না।
-
লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)।
এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

ঝোপ-ঝাড়, বাসা-বাড়ি, বন্যা, সচেতনতা, চিকিত্সা, কার্বোলিক-এসিড, কামড়, বিষধর, সাপ