সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Banana-as-Medicine.jpg

স্বাস্থ্যকথা রোগ নিরাময়ে কলার বহুবিধ ব্যবহার

কলা, কলার খোসা, মোচা, কলা গাছের পাতা এবং শেকড় কোন কিছুই ফেলনা নয়। সবই ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায়।

কলা একটি ‍পুষ্টিকর ফলই শুধু নয়, রোগ নিরাময়েও রয়েছে এর বহুবিধ ব্যবহার। কলা খেয়ে কলার খোসা কি কেউ যত্ন করে রেখে দেয়? দেয় না, বরং আবর্জনা মনে করে ফেলে দেয়। অথচ এই কলার খোসারও রয়েছে নানা রকম উপকারিতা। কলার মোচা, কলা গাছের পাতা এবং শেকড় কোন কিছুই ফেলনা নয়। সবই ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায়।

রোগ নিরাময়ে কলার ব্যবহার:
  • প্রায়ই যাদের মাথা ব্যাথা করে তারা বেশি করে কলা খান। কলা মাথা ব্যাথার তাৎক্ষণিক উপসম করে কিছুটা হলেও। এছাড়াও মানসিক চাপ অনুভূত হলে কলা খেলে মানসিক চাপ কিছুটা কমে।
  • কলা অ্যান্টাসিডের মত কাজ করে। অর্থাৎ কলা হজমে সহায়তা করে এবং পেট ফাঁপা সমস্যা সমাধান করে। এছাড়াও কলা পাকস্থলীতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করতে সহায়তা করে।
  • একটি পাকা কলা চটকে অল্প পানিতে মিশিয়ে হালকা গরম করে সেটাকে ছেঁকে নিয়ে সেই পানিটা সকাল ও বিকালে কয়েক দিন খেলে শুষ্ক কাশি উপশম হবে। তবে প্রতিদিন নতুন করে তৈরী করতে হবে।
  • কলায় আছে প্রচুর আয়রন যা রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে সাহায্য করে। তাই রক্ত শূন্যতার জন্য কলা খুবই উপকারী।
  • গলায় ব্যথা, লাল দেখায়, কর্ণমূল পর্যন্ত ব্যাথা, মনে হয় যেন গলায় ঘা হয়েছে, গলার স্বর ভাঙ্গা ভাঙ্গা: এ ক্ষেত্রে ১টা পাকা কলা ১ কাপ পানি দিয়ে চটকে গরম করে ছেঁকে নিয়ে সকালে এবং নতুন করে তৈরী করে বিকালে খেতে হবে। মাসখানিক খেলেই উপশম হবে।
  • কাঁচাকলা দু-তিনটা খোসাসহ দুই টুকরো করে কেটে অল্প পানিকে সিদ্ধ করে কলার ভর্তা ৪/৫ বার খেলে ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি খাবার স্যালাইনও খাওয়া যাবে।
  •  প্রসূতির কাঁচা নাড়ী শুকাতে, প্রসবের পর শরীরকে ঝরঝরে করার জন্য কাঁচা কলা পুড়ে ভর্তা করে ভাতের সাথে খেতে হবে।
  • ১টা কাঁচাকলা চাকা চাকা করে কেটে রাত্রে ১ গ্রাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে খালিপেটে সেই পানি খেলে মাসখানিকের মধ্যে প্রদর রোগ সেরে যাবে।
  • ধূমপান ছাড়ার জন্য নিয়মিত কলা খান। কলায় থাকা ভিটামিন বি৬, বি১২, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম শরীর থেকে নিকোটিনের প্রভাব দূর করতে সাহায্য করে।
  • কৃমির জন্য ১ চা-চামচ কলাগাছের শেকড়ের রস সকালে খালি পেটে ১ সপ্তাহ খেতে হবে। প্রাপ্ত বয়স্ক ৩-৪ চা-চামচ, কিশোর বয়স্কদের ২ চা-চামচ আর শিশুদের ১ চা-চামচ খাওয়াতে হবে।

কলার খোসার নানান উপকারিতা:
  • মিনারেলে ভরপুর কলার খোসা দাঁতকে সাদা ঝকঝকে করে তুলতে পারে। অনেকেই দাঁত থেকে হলদে ভাবটা কিছুতেই ওঠাতে পারেন না। পাকা কলার খোসার ভেতরের দিকটা দিয়ে কিছুক্ষণ দাঁত মাজুন। এভাবে এক সপ্তাহ ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। দাঁতের ব্যথা কমাতেও কলার খোসা ভালো কাজ করে।
  • মুখের ব্রণ দূর করতে কলার খোসা উপকারী। এর মাধ্যমে একবার সেরে গেলে ব্রণ আর ফিরে আসে না। মুখে কলার খোসা ভালো করে ঘষে সারারাত রেখে দিন, তারপর সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন।
  • কলার খোসা ব্যবহার করে সহজেই মুখের দাগ দূর করা যায়। মধুর সঙ্গে কলার খোসা মিশিয়ে মুখে ভালো করে ঘষলে এই দাগ দূর হয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়।
  • ময়লা হিসেবে কলার খোসা ফেলে দেওয়ার চেয়ে তা রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। এতে অবসাদ দূর হয়৷ কলার খোসায় মুড-নিয়ন্ত্রণ রাসায়নিক সেরোটোনিন থাকে প্রচুর পরিমাণে৷ সেই সেরোটোনিন শরীরের অবসাদ দূর করে।
  • যদি মশা বা কোনো পোকা-মাকড় হঠাৎ কামড় দিয়ে বসে এবং চুলকাতে থাকে তখন সেখানে কলার খোসা ঘষে দিন। দ্রুত ব্যথা ও চুলকানি সেরে যাবে।
  • চোখে ছানি পড়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে কলার খোসা। চুলকানি ও চোখের অবসাদ দূর করতে চোখের ওপর কলার খোসা মেখে নিতে পারেন। কলার খোসায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট লুটিন থাকে৷অতিবেগুনি রশ্মির ছোবল থেকে চোখকে বাঁচায় এই লুটিন৷
  • ত্বকের জন্যও কলার খোসা অনেক উপকারী। কলার খোসায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা বলিরেখা ঢাকতে পারে। এটি সজীব ত্বকে সাহায্য করতে পারে।
  • কলার খোসা দাদের ওষুধ হিসেবেও কাজ করে। চুলকালে সেই অংশে কলার খোসা ঘষে দিলে চুলকানি বন্ধ হবে এবং দ্রুত দাদ সেরে যাবে।
  • মুখমণ্ডল যদি শুষ্ক আর খসখসে হয়, কলার খোসার ভেতরের অংশ মুখে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। তারপর ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন ত্বক মসৃণ ও মোলায়েম হয়ে গেছে।
  • ত্বকে খোসপাঁচড়া জাতীয় কিছু হলে সেই জায়গায় কলার খোসা মেখে রাখুন, অথবা কলার খোসা পানির মধ্যে সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে সংক্রমিত জায়গা কয়েক দিন ধুয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন।
  • কলার খোসা দিয়ে চামড়ার জুতা, কাপড়, রুপার গয়না পরিষ্কার করতে পারেন। এতে অলংকার টেকসই হয় ও মসৃণতা বাড়ে।

কলাপাতায় রোগ নিরাময়:
  • শরীরের কোথাও ক্ষত, চর্মরোগ হলে কলাপাতার রস ঘষে লাগালে উপকার হয়।
  • কানের ব্যাথায়: কলাগাছের মাঝের গোল অর্থাৎ খুলে যায়নি, সেই পাতাকে থেঁতো করতে হবে। রস নিংড়ে নিয়ে একটু গরম করতে হবে। ঐ রস ২ ফোঁটা একবার কানে দিলেই বেদনা কমে যাবে। প্রয়োজনে আবার দিতে হবে।
  • সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, আমাশয়, অম্লগ্যাস, উচ্চ রক্তচাপ, লিভারের দোষ হলে কলাপাতার রস উপকারী।
  • না-কচি, না-শক্ত বিবর্ণ পাতা অর্থাৎ সবুজ পাতা বেটে বা থেঁথলে ছেঁকে সকালের দিকে আধা কাপ খেতে হবে। নুন, চিনি ইত্যাদি মিশিয়ে খাওয়া চলবে না। কলাপাতায় থাকা ক্লোরোফিল পেটে গেলে অন্ত্রের ঘা, লিউকোমিয়া, চর্মরোগ হয় না। কলাপাতার সবুজ রস রক্ত পরিস্কার করে।
  • কচি কলাপাতা বেটে প্রলেপ দিলে কীট দংশন, হুল ফোটা, কাটায় উপকার হবে।
  • ব্রঙ্কাটিস, নেফাইটিস, রক্তক্ষরণ, জমা সর্দিতে কলাপাতার রস খুবই কার্যকরী। প্লুরিশি, কাশি, ক্ষয়রোগ ও থুথুর সঙ্গে রক্ত পড়লে সবুজ কলাপাতার রস প্রতিদিন ভোরে আধাকাপ পরিমাণ খেলে ভীষণ উপকার হবে।
  • সর্বপ্রকার দাঁতের ব্যাথায় প্ল্যান্টাগো (যা কলাপাতা থেকে তৈরী হয়) হোমিওপ্যাথিক ডাক্তাররা সুনামের সাথে ব্যবহার করে আসছেন। প্যান্টাগোর মাদার তুলার দ্বারা দাঁতের গোড়ায় বাহ্যিক ব্যবহারে দাঁত ব্যথা আরোগ্য হয়। দন্তশূল, কর্ণশূল, কাটা, পোড়া, আঘাতাদি, সর্পদংশন, ইরিসিপেলাস ইত্যাদি নানাবিধ রোগে প্যান্টাগো স্বার্থকভাবে ব্যবহৃত হয়। গল-গন্ড, ফুলে উঠা, জ্বর, শিরপীড়া সারাতে প্যান্টাগো ব্যবহৃত হয়।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

রূপচর্চা, হিমোগ্লোবিন, রক্ত, ফল-আয়রন, পুষ্টি, শেকড়, কলা-গাছের-পাতা, মোচা, কলার-খোসা, স্বাস্থ্য, চিকিত্সা, ব্যবহার, কলা, রোগ-নিরাময়