সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

depression-because-bad-result-exam.jpg

সন্তানের পাশে সন্তানের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হলে কি করবেন

অত্যধিক চাপে থাকার কারণে কর্টিসল নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। যার ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ, নিষ্ক্রিয়তা এবং মেজাজ বিগড়ে যেতে পারে। আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে।

এইতো কয়েকদিন আগে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হল। এতে অনেকে ভাল ফল পায়নি। অনেকে তো পাশই করেনি। আবার খুব শীঘ্রই শুরু হবে ভর্তি পরীক্ষা। কোথাও চান্স না পেলে একজন শিক্ষার্থীর মনোবল ভেঙ্গে যেতে পারে। এ সময় অনেক পিতামাতা বা অভিভাবকদের বলতে শোনা যাবে, এত ভাল ফলাফল করে কি হল? বা এত টাকা খরচ করলাম তোমার জন্য আর তুমি কোথাও চান্স পেলে না!

আপনার ছেলেমেয়ে পরীক্ষায় ভাল করেনি বা কোথাও চান্স পায়নি এটা আপনার জন্য কষ্টকর ঠিক কিন্তু আপনার সন্তানের জন্যও কি কষ্টের নয়? তার সহপাঠীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে গেল আর তার মন খারাপ হবে না এমন নয়। তার মাঝে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা যাবে। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে আপনার সন্তানের পাশে দাঁড়াতে হবে। মিলিয়ে দেখুনতো নিচের লক্ষণগুলো আপনার সন্তানের মাঝে দেখছেন কিনা?

সন্তানের লক্ষণীয় পরিবর্তন:
  • আপনার প্রফুল্ল সন্তান বিষণ্ন হবে।
  • বন্ধুদের সাথে কথা বলা বন্ধ করবে ও তাদের থেকে দূরে থাকবে।
  • হঠাৎ রেগে যাবে, পুরাতন বইপত্র ছিঁড়তে পারে, দেয়াল বা শক্ত কাঠে মাথা ঠুকতে পারে।
  • পরিবারের ছোট ভাইবোনের প্রতি রাগ দেখাতে ও আঘাত করতে পারে। এমনকি বড়দের সাথেও খারাপ আচরণ করতে পারে।
  • পূর্বের ভাল লাগার কাজ যেমন টিভি দেখা, মোবাইলে গেম্‌স খেলবে না।
  • ক্ষুধামন্দা হবে ও ঘুমাবে না।
এসব কারণে আপনার সন্তানের মানসিক ও শারিরিক স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। অত্যধিক চাপে থাকার কারণে কর্টিসল নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। যার ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ, নিষ্ক্রিয়তা এবং মেজাজ বিগড়ে যেতে পারে। আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে। যদি এসব লক্ষণ এক সপ্তাহের বেশি থাকে তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।

যা করতে হবে:
  • কথা বলুন: অনেক বাবা মা আছেন যারা সন্তানের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেন। এমনটি করবেন না। সন্তানকে চাপ মোকাবেলা করতে সহায়তা করুন। তাকে জীবনের বাস্তবতাকে মেনে নিতে সহায়তা করুন। কাজ না হলে মানসিক স্বাস্থ্যবিদদের পরামর্শ নিন। অবশ্য এক্ষেত্রে আপনাকেই আগে পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে।
  • পরিকল্পনা করুন: আপনার সন্তানকে ভুল থেকে শিক্ষা নিতে শেখান। জিপিএ কম পাওয়া বা এক বছর পর আবার পরীক্ষা দেয়া তার জন্য বিশাল সামাজিক বোঝা হতে পারে। ভাল শিক্ষকের ব্যবস্থা করতে পারেন। সন্তানকেই সকল পরিকল্পনার ভার দিবেন না।
  • যথাযথ ঘুম: খারাপ ফলাফলের পর ঘুম নষ্ট হওয়া একটি সাধারণ অভ্যাস। চাপ ও উৎকন্ঠা কমাতে মোটেই কাম্য নয়। ঘুমের সময় হলে ল্যাপটপ, আইপ্যাড, ফোন সরিয়ে রাখুন। কিছু খাবার যেমন দই, দুধ, কলা, ওট বা জই, চেরী ফল, তিসি বীজ ইত্যাদি ঘুম বাড়াতে সহায়তা করে।
  • ভাল খাবার: ফলাফল খারাপ করলে বা কোথাও চান্স না পেলে পিতামাতা বা অভিভাবকের কাছ আমার মনে হয় সবথেকে বেশি খাবার সময় তিরষ্কার শুনতে হয়। এটা মোটেও উচিৎ নয়। এসবের পরিবর্তে তার জন্য মজাদার খাবার তৈরি করতে পারেন।
  • বাসায় শান্ত পরিবেশ: আপনার বাসার পরিবেশ শান্ত রাখুন। গোলমাল করলে আপনার সন্তান আরো বেশি জেদি, বদমেজাজী হতে পারে। বিশেষ করে সকালবেলা চিৎকার করবেন না।
  • ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করুন: সবকিছুর পর নিশ্চিত হোন যে আপনার সন্তান বাস্তবতাকে মেনে নিচ্ছে। যদি সে পুরাতন বন্ধুদের বাদ দিয়ে ছোটদের সাথে ক্লাস করতে চায় তবে ক্লাসে পাঠান। এই বিষয়টা মেনে নিতে অবশ্য কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েকমাস লাগতে পারে। সন্তানকে বোঝান খারাপ ফলাফল কোন বিষয় না। তার আত্মবিশ্বাস বাড়ান।
পরিশেষে যারা পাশ করনি বা ভর্তি পরীক্ষায় সফল হতে পারবে না তাদের জন্য বলি ব্যর্থ হওয়া মানেই জীবনের সব শেষ হয়নি। অনেক বড় বড় ব্যক্তিও জীবনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা শক্ত করে জীবনের হাল আঁকড়ে ধরায় সফল হয়েছিলেন। তোমরাও পারবে।

সূত্র: দি হেল্‌থ সাইট।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

আবশ্যক, সহযোগিতা, মা, বাবা, শিক্ষা, মানসিক, দায়িত্ব, পড়ালেখা, ভর্তি, খারাপ, গুরুত্ব, পরীক্ষা, সন্তান