সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

pain-management.jpg

প্রাকৃতিক উপায় দীর্ঘ যাত্রার ব্যথায় মুক্তি পেতে করণীয়

একই স্থানে কয়েক ঘন্টা বসে থাকা কিংবা লম্বা যাত্রার জন্য মাংসপেশী ফুলে যায়। সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না। যার কারনে হাত পায়ের জোড়া বা সন্ধিতে ব্যথা শুরু হয়।

এইতো আর মাত্র কয়েকদিন পরই ঈদ। তাই ঈদের কেনাকাটা করছেন পুরোদমে। আবার ঈদের ছুটিতে বাড়তি আনন্দের প্রত্যাশায় প্রিয়জনের সাথে ঈদ উদযাপন করতে নাড়ির টানে বাড়ির পানে ছুটছেন অনেকেই।

দীর্ঘ সময় ঈদের কেনাকাটায় কিংবা যাত্রা শেষে পা ও মাংসপেশীতে ব্যথা শুরু হয়ে যায়। ফলে কেনাকাটা ও যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে যতটা আনন্দ থাকে যাত্রা শেষে ততটাই বিষাদ এসে ভর করতে পারে। একই স্থানে কয়েক ঘন্টা বসে থাকা কিংবা লম্বা যাত্রার জন্য মাংসপেশী ফুলে যায়। সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না। যার কারনে হাত পায়ের জোড়া বা সন্ধিতে ব্যথা শুরু হয়। পরবর্তীতে পুরো শরীরই ব্যথা করে। এতে অনেক সময় আনন্দের যাত্রায় আফসোস হতে থাকে। তবে ব্যথা অধিক হলে তা থেকে মুক্তি পেতে কিছু প্রাকৃতিক উপায় অনুসরণ করা যায়। চলুন জানি সেসব উপায়।

চেরি ফলের জুস: চেরী ফলের জুস দীর্ঘ পথযাত্রায় মাংসপেশীকে আরাম দিতে সক্ষম। এই ফলে অ্যান্থোসায়ানিন নামক এন্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা ফোলা, আর্থ্রাটিস, বাত ব্যথাসহ যাবতীয় ব্যথা উপশমকারি। সুতরাং ফোলা এবং ব্যথা কমাতে চেরি ফলের জুস পান করতে পারেন।

ম্যাগনেশিয়ামযুক্ত খাদ্য: শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে মাংসপেশীতে ব্যথা এবং সংকোচন শুরু হয়। এজন্য খাদ্য ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়া জরুরী। গুড়, লাউয়ের বীজ, পালংশাক, তিল বীজ, সৃর্যমুখী বীজ, বাদাম, কাজুবাদাম ইত্যাদিতে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে।

তেল মালিশ: তেল প্রদাহরোধী ও ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করতে পারে। মালিশ করলে শরীর গরম হয়। ফলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। তাই ব্যথায় তেল মালিশ করতে পারেন। সাধারণত আদা, ল্যাভেন্ডার, পুদিনা, পাইন তেল ব্যথায় খুবই কার্যকরী।

হ্যালাইট বা রকসল্ট: হ্যালাইট (সাধারণ সংকেত: NaX, উদাহরণ: খাবার লবণ বা NaCl) এবং ম্যাগনেশিয়াম লবণে প্রচুর খনিজ থাকে। এগুলো পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে ব্যথা ও ফোলা কমে। বাথটবে পানি ভরিয়ে ১-২ চামচ লবণ দিয়ে ১৫-৩০ মিনিট গোসল করতে হবে।

লাল মরিচ: লাল মরিচের প্রদাহ ও ব্যথা উপশমকারী গুণ রয়েছে। তাই ব্যথা দূর করতে খুবই কার্যকরী। ব্যথা হলে দেড় কাপ নারিকেল তেল হালকা গরম করে তাতে দুই চামচ লাল মরিচের গুঁড়া মেশান। অতঃপর মিশ্রণটি ব্যথার স্থানে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। দিনে দুইবার লাগাতে হয়।

কোল্ড থেরাপি: বরফ অথবা ঠান্ডা পানি ব্যথা দূর করতে পারে। আইসপ্যাক লাগালে মাংসপেশীর রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। যার ফলে ব্যথা ও ফোলা কমে যায়।

এতক্ষণ ব্যথা তাড়াতে যে উপায়গুলো জানলাম সেগুলো খুব সহজেই আপনারা বাসাতেই করতে পারবেন। তাই ব্যথায় এসব পদ্ধতি অবলম্বন করে ঈদ আনন্দ বাড়িয়ে তুলুন। সকলের যাত্রা শুভ হোক। আপনাদের সবার জন্য রইল আগাম ঈদ মোবারক।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

method, Natural, health, relief, muscle, journey, stress, management, pain