সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Ganda-flower-treatment.jpg

জেনে নিন চিকিৎসায় গাঁদা ফুলের ব্যবহার

পরিষ্কার পানির সাথে গাঁদা ফুলের নির্যাস পান করলে মুখ ও পেটের আলসার কমে যায়। ফুলের নির্যাস লসিকাতন্ত্রকে লসিকা নিঃসরণে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে পেট পরিষ্কার হয় ও টক্সিন কমে যায়।

গাঁদা আমাদের অতি পরিচিত একটি ফুল। ফুলটি সহজেই সর্বত্র চাষ হয়ে থাকে। উজ্জ্বল হলুদ ও কমলা হলুদ রংয়ের এই ফুলটি শীতকালীন ফুল হলেও গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালেও চাষ করা যায়। বাগানের শোভা বর্ধন ছাড়াও এটি বিভিন্ন উৎসব, পুজা-পার্বন ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। তবে এসব ছাড়াও গাঁদার রয়েছে আরো অনেক উপকারী গুণ। চলুন জানা যাক সেগুলো।

ক্ষত সারাতে:
প্রাচীনকাল থেকেই কেটে গেলে রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে গাঁদা ফুলের পাতা ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি দ্রুত ক্ষত সারাতে সক্ষম। গাঁদা ফুলের নির্যাস ছোট খাট পোঁড়া, চামড়া ছুলে যাওয়া, জ্বলা ইত্যাদির চিকিৎসায় খুবই কার্যকর। সম্প্রতি ব্রাজিলের এক গবেষণায় জানা যায় গাঁদা ফুল খুব দ্রুত চামড়ার কোষ ও রক্তনালীর কোষ বৃদ্ধিতে সক্ষম।

ক্যান্সার প্রতিরোধক:
নিউট্রিশন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায় গাঁদা ফুল ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম। গবেষকরা এতে থাকা লুটেইন নামক এন্টি-অক্সিডেন্টটির ব্রেস্ট ক্যান্সার টিউমারের উপর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেন। এতে দেখা যায় লুটেইন ব্রেস্ট টিউমারকে শুধু কমিয়েই দেয় না তা নতুন ক্যান্সার কোষ জন্মানোতেও বাঁধা দেয়।

আলসার চিকিৎসা:
পরিষ্কার পানির সাথে গাঁদা ফুলের নির্যাস পান করলে মুখ ও পেটের আলসার কমে যায়। ফুলের নির্যাস লসিকাতন্ত্রকে লসিকা নিঃসরণে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে পেট পরিষ্কার হয় ও টক্সিন কমে যায়।

রোগ প্রতিরোধে:
এই ফুলে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্ট। তাই গাঁদা ফুল হৃদরোগ, ক্যান্সার, স্ট্রোক প্রতিরোধে সহায়ক।

আর্থ্রাইটিস বা বাতের চিকিৎসা:
এই ফুলের এন্টি-ইনফ্লামেটরি গুণ থাকায় বাত ও হাঁড়ের সন্ধির ব্যথায় ব্যবহৃত হয়।

যৌনাঙ্গের সংক্রমণ প্রতিরোধক:
গাঁদা ফুলের পাঁপড়ি গরম পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানিতে গোসল করলে স্ত্রীজনন অঙ্গের সংক্রমণ, মূত্রথলির সংক্রমণ কমে যায়। এভাবে ব্যবহারের ফলে অর্শ রোগ থেকেও মুক্তি মিলতে পারে।

তৈলাক্ত চামড়ার চিকিৎসা:
গরম পানিতে গাঁদা ফুল ডুবিয়ে সেই ফুল তুলে তৈলাক্ত চামড়ায় মাসাজ করতে হয়। মাসাজের ১০-১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে চামড়ার তৈলাক্ততা দূর হয়।

-
লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Flower, treatment, health, nature