সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

dowry-old-style-modern-style.jpg

ফার্নিচার রীতি যুগের হাওয়ায় যৌতুকের সংজ্ঞা

বিয়ের ৩দিন আগে খ্যাতনামা এক ফার্নিচার কোম্পানির কাভার্ড ভ্যান এসে দাড়ালো বাড়ির সামনে। তাদের দক্ষ শ্রমিকরা কতগুলো কার্টন বক্স নিয়ে ঢুকলো। এক ঘন্টার মধ্যে বেডরুমে খাট, ড্রেসিং টেবিল, আলমারি সাজানো হয়ে গেলো। ড্রয়িং রুমে সোফা, ডাইনিং রুমে টেবিল চেয়ার। আরেক গাড়িতে এলো ফ্রিজ।

ঘটনা ১:
কৌশিকের বিয়ে আর কয়েকদিন পরেই। তার এতদিনের জীবন ছিলো বাবা মায়ের সাথে। তিন বেড রুমের বাসায় কৌশিকের নিজস্ব একটা রুম থাকলেও পরিকল্পনা করা হচ্ছে বিয়ের পর সে বউ নিয়ে আলাদা বাসায় থাকবে। ছোটখাটো একটা বাসাও দেখা হয়ে গেছে। এখন চলছে নতুন বাসা গোছানোর পরিকল্পনা।

হাড়ি পাতিল, প্লেট, বিছানার চাদর, জানালার পর্দা - এসব নিয়ে আলাপ আলোচনা হলেও ঘরের ফার্নিচার নিয়ে কারো কোনো কথা নেই। একটা অলিখিত নিয়মের মতো সবাই জানে - এসব তো শ্বশুর বাড়ি থেকেই আসবে। বাস্তবে ঘটলোও তাই! বিয়ের ৩দিন আগে খ্যাতনামা এক ফার্নিচার কোম্পানির কাভার্ড ভ্যান এসে দাড়ালো বাড়ির সামনে। তাদের দক্ষ শ্রমিকরা কতগুলো কার্টন বক্স নিয়ে ঢুকলো। এক ঘন্টার মধ্যে বেডরুমে খাট, ড্রেসিং টেবিল, আলমারি সাজানো হয়ে গেলো। ড্রয়িং রুমে সোফা, ডাইনিং রুমে টেবিল চেয়ার। আরেক গাড়িতে এলো ফ্রিজ।

কোনো রকমের দেন দরবার নেই, আতিথিয়তার উটকো ঝামেলা নেই। রাত্রে শ্বশুর বাড়ির কেউ একজন ফোন করে জেনে নিলো সবকিছু ঠিকঠাকমত আসছে কিনা। বন্ধুদের কেউ একজন ঠাট্টা করে কৌশিককে জিজ্ঞাসা করলো - দোস্ত ভালই তো যৌতুক নিলা। কৌশিক খানিকটা বিরক্ত হয়েই উত্তর দিলো - উপহার আর যৌতুকের পার্থক্য বোঝো না কেন?

ঘটনা ২:
শায়লা তার বাবা মা কে আগেই জানিয়ে দিয়েছে তার শ্বশুর বাড়িতে যে ফার্নিচার দেয়া হবে তা যেনো অনেক দামি আর হাইফাই হয়। দরকার হলে সে গহনা কিছু কম নিবে, কিন্তু ফার্নিচারের সঙ্গে কোনো আপোষ করা যাবে না। তার যুক্তি - গহনা হয়তো বিয়ের সময়কার দুই একদিন সবাই দেখবে, বলাবলি করবে। কিন্তু ফার্নিচার থাকবে যুগ যুগ। শ্বশুর বাড়িতে তার মর্যাদা বাড়াতে এটা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

শায়লার বাবা বিত্তশালী মানুষ। তিনি গহনা বা ফার্নিচার কোনটাতেই কোনো রকমের কমতি করেননি। কিন্তু সমস্যা হলো শায়লার বরের বাসাটা অতো বড় ছিলো না। এত ফার্নিচারের সংকুলান সেখানে হচ্ছিলো না। এই নিয়ে শুরু হলো বিয়ের প্রথম দিন থেকেই নতুন আর বড় বাসার বায়না এবং অতপর এক সময়ে এই বায়নাই হয়ে উঠলো পারিবারিক কলহের মূল ইস্যু।

ঘটনা ৩:
শফিকের বিয়ের কথা মোটামুটি পাকা হওয়া মাত্রই সে সবাইকে জানিয়ে দিলো শ্বশুর বাড়ি থেকে দেয়া কোনো ধরনের উপহার উপঢৌকন সে নিবে না। সে সবাইকে সাবধান করে দিলো এই ব্যাপারে কোনো অবস্থাতেই কেউ যেনো কোনো কথা না বলে।

তার এই ঘোষণায় বড় মামা একটা পারিবারিক সভা ডাকলেন। ওই সভায় তার আলাদা বাসা নেয়া আর বাসা সাজানো নিয়ে কথা তোলা হলো। সেখানে সিদ্ধান্ত হলো বড় মামা দিবে শোবার ঘরের খাট, মেজো খালা দিবে একটা আলমারি। শফিক নিজের টাকায় কিস্তিতে একটা ফ্রিজ কিনবে। সংসারের টুকিটাকি সব জিনিস জোগার করার দায়িত্ব নিলো ছোটবোন। কথা হলো বিয়ের পর শফিক তার বউ কে নিয়ে পছন্দ ও সাধ্যানুযায়ী বাদ বাকি জিনিসপত্র কিনে নিবে।

পরিশিষ্ট:
উপরের তিনটি গল্পের চরিত্রগুলো কাল্পনিক হলেও ঘটনাগুলো আমাদের আশপাশ থেকেই নেয়া। যুগের হাওয়ায় যৌতুকের সংজ্ঞা একটু পাল্টেছে, কিন্তু প্রচলন এক বিন্দুও কমেনি। আমাদের যেসব নারীবাদী নেতানেত্রী এসব নিয়ে গালভরা বক্তব্য দেন তারাই এটাকে পরম মমতায় পালন করছেন নিজেদের ছেলেমেয়েদের বিয়েতে। উপহার, উপঢৌকন বা যৌতুক - যে নামেই বলা হোক না কেন, সুখের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

stop, dowry, furniture, culture, social, Marriage, family, awareness