সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

keep fit.jpg

সুস্থ থাকুন ডায়েট শুরু করবেন? জেনে রাখুন এই টিপসগুল

ডায়েটের মূল শক্তিই হল মানসিক শক্তি। তাই কখনো হাল ছেড়ে দেয়া বা হতাশ হওয়া চলবে না। ধৈর্য্য ধরে ডায়েট চালিয়ে যান, সফলতা আসবেই।

ডায়েট শব্দটির সাথে পরিচিত নন এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। শারীরিক সুস্থতার জন্যই হোক আর শরীর ফিট রাখার জন্যই হোক, আমরা অনেকেই ডায়েট করতে চাই।

সমস্যা হল শুরুটা কিভাবে করবেন? কেমন করে করবেন। কিভাবে ডায়েট করলে সাফল্য পাবেন তাড়াতাড়ি। এই ব্যাপারগুলো আমাদের সবার মাঝেই কাজ করে। আজ তবে এই বিষয়গুলো নিয়েই কথা বলা যাক।

মনকে রাখতে হবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধঃ

আপনি ডায়েট কেন করতে চাইছেন? নিশ্চয়ই নিজের ভালোর জন্য। আর তাই নিজের মনকে বোঝাতে হবে যে আপনি যা করছেন তা আপনার ভালোর জন্যই করছেন।

ডায়েটের মূল শক্তিই হল মানসিক শক্তি। তাই কখনো হাল ছেড়ে দেয়া বা হতাশ হওয়া চলবে না। ধৈর্য্য ধরে ডায়েট চালিয়ে যান, সফলতা আসবেই।

পানি আপনার অকৃত্রিম বন্ধুঃ

পানি কম পানের অভ্যাস থাকলে এখনই তা ঝেড়ে ফেলুন। পানি আপনার অকৃত্রিম বন্ধু। প্রতিদিনি কমপক্ষে ৭/৮ গ্লাস পানি পান করুন। আরো বেশি হল তো আরো ভালো। পানি আপনার দেহের সকল কার্যাবলিকে তরান্বিত করবে।

হাটতে হবে প্রতিদিনঃ                          

ডায়েট মানে কিন্তু কেবল খাবার সংক্রান্ত ব্যাপার নয়। আপনি যদি ডায়েট শুরু করে থাকেন তবে অবশ্যই হাটার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন অন্তত আধা ঘন্টা আপনাকে হাটতেই হবে। যদি আপনার হৃদপিণ্ড জনিত কোন সমস্যা থাকে বা হাড় জনিত কোন সমস্যা থাকে, তবুও চেষ্টা করবেন ধীরে ধীরে হলেও হাটতে। 

ভোর বেলা হাটা স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো। তবে, আপনি যদি তখন সময় না পান, বিকেল বা রাতে জোর কদমে ৩০-৪০ মিনিট হাটুন। ওজন কমাতে হাটা কিন্তু বেশ তাড়াতাড়ি আপনাকে সাহায্য করবে।

খাবার খাবেন বুঝে শুনেঃ

আপনি ডায়েট করে চিকন হতে চাচ্ছেন কিন্তু ফাস্ট ফুড থেকে নিজেকে কিছুতেই সামলাতে পারছেন না, এমনটা হলে কিন্তু ডায়েট করে কোন লাভ নেই। ফাস্ট ফুড, তেলে ভাজা খাবার, দুধ চা এসব আপনার জন্য প্রচন্ড ক্ষতিকর।

এক বেলা ভাত খান এবং সেটা অবশ্যই এক কাপের বেশি নয়। সাথে খাবেন প্রচুর সবজী। রাতে ভাত না খেয়ে ফল বা মুরগীর মাংস সেদ্ধ করে খেতে পারেন। উচ্চ ক্যালরী সম্পন্ন খাবারগুলো থেকে বিরত থাকবেন সবসময়।

ওটমিল হতে পারে আপনার জন্য আদর্শ সকালের খাবার। গ্রীন টি আর ব্ল্যাক কফি পানের অভ্যাস করুন। আর ফলের জুস তো খাবেনই। মোট কথা আপনাকে বুঝতে হবে কোন খাবার গুলো আপনাদের দেহের জন্য উপকারী আর কোনগুলো ক্ষতিকর। সে অনুযায়ী খাবার খেতে হবে।  

গঠন করতে হবে ব্যায়ামের অভ্যাসঃ

না খেয়ে বা কম খেয়ে কেউ কখনো চিকন হয়না। বরং পরিমিত খাবার গ্রহন করে তার পাশাপাশি হেটে এবং ব্যায়াম করাই চিকন হবার মূলমন্ত্র। আপনি ডায়েট করতে চাইলে ব্যায়ামের অভ্যাস গঠন করুন।

এলাকার জিমে গিয়ে ওয়ার্ক আউট করতে পারেন। আর তাতে সমস্যা থাকলে ঘরে বসেই ছোট খাটো কিছু ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করুন। কি ব্যায়াম করবেন তা জানার জন্য ইউটিউব আপনার সাহায্যকারী বন্ধু হতে পারে।

মনকে রাখুন আনন্দময়ঃ

কোন কাজ তখনই সহজ হয় যখন আপনি সেটা নিজ ইচ্ছায় আনন্দ নিয়ে করবেন। তাই ডায়েট নিয়ে কখনো মনকে চাপ দিবেন না। বরং যা করবেন, যা খাবেন সব আনন্দের সাথে করবেন। 

সবসময় হাসি খুশি ভাবে থাকবেন এবং ডায়েট চালিয়ে যাবেন। দেখবেন বিরক্তি কাজ করবে না। ডায়েটকে জীবনের অপরিহার্য অংশ না ভেবে সুন্দর জীবনের সুন্দর একটি অংশ ভাবুন এবং নিজ লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান।

মোটামুটি এগুলো হল কিছু টুকটাক টিপস। আপনি যদি ডায়েট করার কথা চিন্তা করে থাকেন, তবে দেরী না করে শুরু করে দিন। কয়েক মাস পর নিশ্চয়ই আয়নায় নিজেকে দেখে আমার মত আপনারও বেশ ভালো লাগবে। 


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

ডায়েট, ফিটনেস, মন, পানি, খাবার, হাটা, ব্যায়াম, স্বাস্থ্য