সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

How-to-alleviate-neck-pain.jpg

উপকারী টিপস ঘরোয়া এই ১১ উপায়েই দূর করুন যন্ত্রণাদায়ক ঘাড়ের ব্যথা

মেন্থল ও কর্পূরের লেপ লাগানোর ফলে রক্তসংবহন বৃদ্ধি পায়। এই দুইটি উপাদানের মিশ্রণের ফলে ঠাণ্ডা ও উষ্ণ দুই ধরণের অনুভূতি পাওয়া যায়। উষ্ণতার কারণে আপনার ব্যথা দূর হবে। আবার ঠাণ্ডার কারণে আপনি আরাম পাবেন।

ঘাড় ব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। এটি কোন বড় কোন রোগের লক্ষণ নাও হতে পারে, তবে এটি বেশ অস্বস্তিকর। পেশি টান, একটানা একভাবে বসে কাজ করা, ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো, পুষ্টির অভাব, অতিরিক্ত ব্যায়াম, একটানা মাথা নিচু রাখা ইত্যাদি কারণে ঘাড় ব্যথা হতে পারে। এই অস্বস্তিকর ব্যথা দূর করা সম্ভব ঘরোয়া কিছু উপায়ে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কার্যকরী ঘরোয়া উপায়গুলো।

১। আইস প্যাকঃ ইনফ্লামেশনের কারণে ঘাড়ের পেশিতে যে ব্যথা হয়ে থাকে, তা দূর করতে আইস প্যাক বেশ কার্যকর। একটি ব্যাগে কয়েক টুকরো বরফ ঢুকিয়ে ঘাড়ে দিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট রাখুন। এটি ২ থেকে ৩ ঘন্টা পর পর ব্যবহার করুন। ঘাড়ের ব্যথা কমিয়ে দিবে নিমেষে।

২। আপেল সাইডার ভিনেগারঃ আপেল সিডার ভিনেগারে একটি টাওয়েল ভিজিয়ে নিন। এবার এটি ঘাড়ে ব্যথার স্থানে লাগিয়ে রাখুন। এভাবে কয়েক ঘন্টা রাখুন। এটি দিনে দুইবার করুন। এছাড়া দুই কাপ আপেল সাইডার ভিনেগার কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর এটি দিয়ে গোসল করে ফেলুন।

৩। গরম পানির সেঁকঃ গোসলের সময় ঘাড় ব্যথার স্থানে তিন থেকে চারবার গরম পানি দিন। এরপর ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড ঠান্ডা পানি ঢালুন। এই কাজটি কয়েকবার করুন। গরম পানি পেশিতে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে দিবে আর ঠান্ডা পানি পেশি ইনফ্লামেশন রোধ করবে।

৪। আদাঃ দুই কাপ পানি মাঝারি আঁচে জ্বাল দিয়ে দিন। এরপর এতে আদা কুচি, দিয়ে ১০ মিনিট সিদ্ধ করুন। এর সাথে মধু মিশিয়ে নিন। ঘাড় ব্যথার সময় এটি পান করুন। আদার অ্যান্টি-ইনফ্লামেনটরী উপাদান রক্ত চলাচল সচল রেখে ঘাড় ব্যথা কমিয়ে দেয়। এছাড়া একটি সুতির কাপড়ে আদা কুচি পেঁচিয়ে সেটি গরম পানিতে ৩০ সেকেন্ড ভিজিয়ে নিন। এবার এটি ঘাড়ে ব্যথার স্থানে লাগিয়ে নিন। এটিও আপনার ঘাড় ব্যথা কমিয়ে দিবে দ্রুত।

৫। হলুদঃ এক গ্লাস গরম দুধে এক চা চামচ হলুদ গুঁড়ো দিয়ে অল্প আঁচে ৫ মিনিট জ্বাল দিন। এর সাথে মধু মিশিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেলে পান করুন। এটি দিনে দুইবার পান করুন। ব্যথা না কমা পর্যন্ত এটি পান করতে থাকুন।

৬। আরনিকাঃ এটি একটি বিশেষ ভেষজ। এটি ব্যথা উপশম করার সেরা প্রতিকার। এই ভেষজ বৃক্ষের ফুল থেকে রস বের করে ঘাড়ে লাগিয়ে রাখলে ঘাড়ের ব্যথা উপশম হয়।

৭। মেন্থল ও কর্পূরঃ মেন্থল ও কর্পূরের লেপ লাগানোর ফলে রক্তসংবহন বৃদ্ধি পায়। এই দুইটি উপাদানের মিশ্রণের ফলে ঠাণ্ডা ও উষ্ণ দুই ধরণের অনুভূতি পাওয়া যায়। উষ্ণতার কারণে আপনার ব্যথা দূর হবে। আবার ঠাণ্ডার কারণে আপনি আরাম পাবেন।

৮। ল্যাভেন্ডারঃ আদিকাল থেকে বিভিন্ন ঔষধি তৈরির উদ্দেশ্যে ল্যাভেন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে এই ল্যাভেন্ডার থেকে তেল আরোহণ করা হয়। এই তেল দিয়ে ঘাড়ে মালিশ করা হলে, খুব দ্রুত আপনার ঘাড়ে ব্যথা কমে যাবে।

৯। সরিষার তেল ও রসুনের ব্যবহারঃ ২ টেবিল চামচ সরিষার তেল নিন। একটি প্যানে ঢেলে গরম করে এতে দিন ৩/৪ টি রসুনের কোয়া। রসুন গাঢ় বাদামী হওয়া পর্যন্ত ভাজতে থাকুন। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে কিছুটা ঠাণ্ডা হতে দিন। খানিকটা গরম থাকতে থাকেই এই তেল ঘাড়ে ও কাঁধে মালিশ করুন। ১০ মিনিট ভালো করে ম্যাসেজ করলে দূর হয়ে যাবে ঘাড় ও কাঁধে ব্যথার সমস্যা।

১০। কালো তিলের ব্যবহারঃ ১ টেবিল চামচ কালো তিল সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর সকালে উঠে এই তিল ও তিলের পানি পান করে নিন। এতে করে ঘাড় ও কাঁধে ব্যথার সমস্যা দূরে থাকবে।

১১। স্ট্রেচিংঃ ব্যায়ামের মধ্যে স্ট্রেচিং ঘাড় ও কাঁধের আড়ষ্টতা দূর করতে সবচাইতে বেশি কার্যকরী। যখনই একটানা বসে থাকবেন তখনই ফাঁকে ফাঁকে স্ট্রেচিং করে নিন। এতে করে ঘাড় ও কাঁধ আড়ষ্ট হবে না এবং ব্যথাও করবে না।

ব্যায়াম-১

ঘাড় সোজা করে সামনের দিকে তাকান। এবার বাম হাত বাম কাঁধের ওপর রাখুন। ডান হাত মাথার উপর দিয়ে ঘুরিয়ে বাম কানের ওপর রাখুন। এবার ধীরে ধীরে ডান হাতের চাপ প্রয়োগ করে মাথা ডান পাশে হেলিয়ে দিন। ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন, এরপর ঘাড় সোজা করে নিন। একইভাবে বাম পাশ করুন। এবারে ৪-৫ বার করুন।

ব্যায়াম-২

একটি পেন্সিল বা কলম নিয়ে দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরুন। এবার এই অবস্থাতেই বাতাসে অর্থাৎ আপনার মুখের সামনেই শুধুমাত্র ঘাড় ঘুরিয়ে লেখার চেষ্টা করুন। নিজের নাম, ঠিকানা ইত্যাদিসহ যা মন চায় লিখুন। এতে করে ঘাড়ের পেশীগুলোর বেশ ভালো ব্যায়াম হয়ে যাবে। তবে প্রথম দিনেই অনেক বেশি করবেন না। ১/২ মিনিট করুন। এভাবে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে লেখার মাত্রা বাড়ান।

এই ব্যায়ামগুলো করার অভ্যাস রাখলে যন্ত্রণাদায়ক ঘাড় ব্যথা এড়িয়ে যেতে পারবেন অনায়েসেই। এবং সেই সাথে সঠিক শোয়া বসার অভ্যাস আয়ত্ত করুন।


প্রয়োজনীয় কিছু টিপসঃ

১) একটানা বসা কাজ করবেন না।

২) প্রতি ২০-২৫ মিনিটে অন্তত ১ বার উঠে ৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করে আসুন।

৩) ঘাড়, পিঠ ও মেরুদণ্ড বাঁকা করে বসবেন না।

৪) শক্ত সমান বিছানায় এক বালিশে চিত হয়ে ঘুমাতে হবে।

৫) ঘুমানোর সময় ঘাড়ের নিচে বালিশ দিতে হবে।

৬) দরকার হলে বালিশ নিচে টেনে নামিয়ে ঘাড়ের নিচে নেবেন বা কম উচ্চতার বালিশ ব্যবহার করবেন।

৭) ঘাড় সামনে ঝুঁকিয়ে বেশিক্ষন কাজ করা যাবেনা।

৮) কাজের জায়গায় চেয়ার টেবিল এমন ভাবে রাখবেন যাতে ঘাড় সামনে না ঝুকিয়ে কাজ করতে না হয়।

৯) এসময় ঘাড়ের ব্যয়াম বেশ আরাম দেবে।

১০) সার্ভিক্যাল কলার ব্যবহার করা হবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে। 


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

ঘাড়-ব্যাথা, মুক্তির-উপায়, ঘরোয়া-উপায়, পানির-সেঁক, আইস-প্যাক, আদা, ব্যায়াম