সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

1449869909_depsicologia.com.wp-content.uploads.alzheimer_thumb.jpg

রোগীর যত্ন প্রবীণ বয়সের রোগ; ডিমেনশিয়া

একটা বিশেষ বয়সের পরে স্মৃতিশক্তি ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। মানুষ ভুলতে শুরু করে। প্রথমে অতীতের কথা ভুলে যায় পরে কিছুক্ষণ আগের কথাও মনে রাখতে পারে না।

প্রবীণ বয়সের ডিমেনশিয়া মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে প্রবীণ জীবন সম্পর্কে অল্প কিছু জানা প্রয়োজন। এটা পরিবারের বা সমাজের প্রবীণদের একটু পর্যবেক্ষণ করলেই জানা যায়। ডিমেনশিয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কারণ মানুষ যখন জন্ম নেয় তখন থেকেই তার যাত্রার শুরু। এই যাত্রা ধাপে ধাপে অতিক্রমিত হয়ে পৌঁছে যায় প্রবীণ বয়সে।

মানুষের জন্মের সঙ্গে দেহের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঙ্গে মেমরিও থাকে। এই মেমরি স্মৃতি হিসেবে জীবনের এবং আশেপাশের ঘটনাবলী ধারণ করে। একটা বিশেষ বয়সের পরে স্মৃতিশক্তি ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। মানুষ ভুলতে শুরু করে।

প্রথমে অতীতের কথা ভুলে যায় পরে কিছুক্ষণ আগের কথাও মনে রাখতে পারে না। এই স্মৃতি বিভ্রম মানুষের পক্ষে বেদনাদায়ক। এইজন্য যে ব্যক্তি ভুলে যায় বা যাচ্ছে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না করে তাকে খুব আস্তে আস্তে মমতার সঙ্গে মনে করালে সে শান্তি পাবে। ডিমেনশিয়া আক্রান্ত প্রবীণ মানুষের দুটো কষ্ট থাকে-
  • নিজের মনে করতে না পারার
  • এই মনে না করতে পারার জন্য খারাপ ব্যবহার বা কটুক্তি শোনার।
প্রবীণ বয়সে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে স্মৃতিশক্তি কারো কারো ক্ষেত্রে হ্রাস পেতে পারে আবার কারো ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেতে পারে। ডিমেনসিয়ার ক্ষেত্রে পরিবারকেই প্রথমে সচেতন হতে হবে। প্রবীণ মানুষকে সাহায্য ও সহযোগিতা করতে হবে। মানুষের দিন পাল্টায়।

যে মানুষটা একদিন কর্তাব্যক্তি ছিলেন দিনবদলের সঙ্গে তিনি হয়ে যান অপাংক্তেয়। কিন্তু তাকে অপাংক্তেয় মনে করলে চলেেব না। বর্তমান যিনি কর্তাব্যক্তি থাকছেন তাকে মনে রাখতে হবে সংসারের ঐ মানুষটার জন্যই তার এতটাদূর আসা। তাঁর কাছে অনেক ঋণ এই সংসার এই সমাজের এমন কি তারও।

অমর্যাদা এবং অবহেলা ডিমেনশিয়ার কারণ হতে পারে। কারণ অমর্যাদা এবং অবহেলার কারণে বয়সী মানুষটা কষ্টে থাকে। আর কষ্টে থাকলে মানুষ ভুলে যায় বেশি। এমনিতেই মানুষের মনে রাখার সময়কাল সীমিত এর মধ্যে কষ্ট পেলে শুধু ঐ কষ্টের কথাই মনে থাকে  সেই জায়গায় অন্য কোন বিষয়ই দখল করতে পারে না।

তখন মনে হয় বয়স না বাড়লেই বোধহয় ভালো ছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আরো একটা কাজ হয় যেটা হলো মানুষের স্মৃতি থেকে বা মাথা থেকে কোন একটা কথা সহজে বের হয় না।

তরুণ বা শিশুরা যেমন খুব তাড়াতাড়ি একটা কথা তার মাথা থেকে বের করে অন্য কথা নিয়ে চিন্তা করতে পারে তেমন বয়সী মানুষ পারে না। এই কারণে ভুলে যাওয়া অসুখ বা ডিমেনশিয়া হয়। অনেক সময় অনেক কেনর উত্তর খুঁজে বয়সী মানুষ যার উত্তর তরুণ বয়সে খোঁজার কথা মনে হয়নি তার।

বয়স্ক মানুষেরও শিশুদের মতো ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্খা প্রবল থাকে। সে যখন দেখে মনে না রাখতে পারার জন্য কটুক্তি শুনতে হচ্ছে তখন বেশি বেশি মনে রাখতে বা করতে গিয়ে আরও ভুলে যায়।

শিশুর যেমন খুব বেশি চাহিদা থাকে না তেমনি একজন বয়স্ক মানুষেরও চাহিদা বেশি থাকে না। তিনি শুধু চান একটু সম্মান একটু আদর একটু মমতাপূর্ণ সময়। আর চান একটা আনন্দপূর্ণ মৃত্যু। এটা প্রকৃতিগত যা মানুষ বেশি বেশি করতে চায় তা মানুষ হারায় তাড়াতাড়ি।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

ডিমেনশিয়া, প্রবীণ, রোগ, ভালোবাসা, ভুলে-যাওয়া