সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

ছিমছাম গোছানো সংসার

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই বাড়ি মাথায় তুলেছেন শিহাব সাহেব। কারণ শেভিং রেজার খুঁজে পাচ্ছেন না। ওদিকে মিসেস শিহাব সকালের নাস্তা তৈরিতে ব্যস্ত। তিনিও পারছেন না উঠে এসে রেজার খুঁজে দিতে।

এমন অহেতুক ঝামেলা এড়ানোর জন্য সংসারটা একটু গুছিয়ে রাখুন। কোথায় কি রেখেছেন তা সংসারের অন্য সদস্যদেরও জানিয়ে রাখুন। না হলে আপনাকেই একা হাতে সংসার সামলাতে হবে। তাই যার যার বিষয়গুলো তাকে বুঝিয়ে দিন। যেমন-

আপনার জিনিসগুলো আপনি গুছিয়ে রাখুন। আপনার স্বামীরগুলো তাকে গুছিয়ে নিতে উদ্বুদ্ধ করুন। তাতে আপনার অসময়ে তাকে সাহায্য করতে হবে না। এই যেমন শেভিং সরঞ্জাম তাকে গুছিয়ে রাখতে বলুন। তার কাপড়চোপড় তার নাগালের মধ্যে রাখুন, এবং ব্যবহার করে আবার নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সংসারে ছোট বাচ্চা থাকলে তাদেরও নিজের জিনিস নিজেকে গুছিয়ে রাখতে শিখিয়ে দিন। প্রাথমিক চিকিত্সার সরঞ্জাম বা ফার্স্ট এইড বক্স কোথায় রাখেন তা সবার জানা দরকার। অবশ্য শিশুদের নাগালের বাইরে থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর লেখা ডায়েরিটাও আপনার নাগালে রাখুন।

অপ্রয়োজনীয় পুরনো জিনিসপত্র সংসারে রেখে সংসার অগোছালো করার কোনো মানেই হয় না। তাই পুরনো জিনিসপত্র যতটা পারেন বাতিল করে দিন। তাহলে ঘরবাড়ি বেশি নোংরা হবে না, পরিষ্কার করাও সহজ হবে।

যখন যে কাজ করা প্রয়োজন মনে করবেন তখনই সেটা করে ফেলুন। আজ করব, কাল করব করে ফেলে রাখবেন না, তাহলে কাজ জমে যাবে এবং তা শেষ করতে বেশ সময় লেগে যাবে, তাই কাজ যতটা সম্ভব আগেভাগে শেষ করে নেয়া ভালো।

প্রতিদিনের ব্যবহৃত কাপড়চোপড় প্রতিদিন পরিষ্কার করে শুকিয়ে, ভাঁজ করে উঠিয়ে রাখুন। দিনে দিনে জমা হয়ে গেলে কাপড়চোপড়ের স্তূপ হয়ে পাহাড় জমে যাবে তখন কাজ শেষ করতে আপনাকেই ঝামেলা পোহাতে হবে। তাই প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন শেষ করে ফেলুন।

খাওয়ার পর থালাবাসন জমিয়ে রাখবেন না। বরং যার যার প্লেট তাকে ধুয়ে রাখতে বলুন। তাহলে সব থালাবাসন আপনাকে ধুতে হবে না। আর যদি একান্ত আপনাকে ধুতেই হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে রাখুন।

বালিশ, মশারি ও কাঁথা ভাঁজ করে ওয়্যারড্রোবে তুলে রাখুন। তাহলে বিছানাটা বেশ টানটান ও গোছানো থাকবে। আর বালিশ থাকলেই সেটা আপনার ব্যবহার করতে ইচ্ছে করবে। আর ব্যবহার করলেই বিছানা অগোছালো হয়ে যাবে।

ঘর প্রতিদিন মুছে দিন তাহলে ঘর অপরিষ্কার কম হবে ও আপনাকে মুছতেও বেগ পেতে হবে না। অল্প ময়লা তুলতে সময় ও শ্রম কম ব্যয় হবে।

ঘরের ঝুল সব সৌন্দর্য বিলীন করে দেয়, তাই যেসব জায়গায় ঝুল জমে, সেই জায়গাগুলোতে প্রতিদিন ঝাড়ু দেয়ার সময় ঝাড়ুটা বুলিয়ে দিন। তাহলে আর আয়োজন করে ঝুল ঝাড়তে হবে না।
ফ্যান, ফ্রিজ, টিভি ফোনসেট প্রতি সপ্তাহে মুছুন, পারলে প্রতিদিনই একবার করে মুছে দিন। এতে ধুলা জমবে না।

চুলাটা রান্নার পরপরই মুছে ফেলুন। তরকারি কাটার ময়লাও রান্না শেষে তুলে ফেলুন। রান্না শেষে রান্না ঘরটা ভেজা ন্যাকড়া দিয়ে মুছে ফেলুন। এতে তেল চিটচিটে ভাবটা দূর হয়ে যাবে।

আর বাসায় যদি ছোট বাচ্চা থাকে, তাহলে তো ঘর গুছিয়ে রাখা দুষ্কর। কিন্তু ওদের খেলার ঘরটা বা জায়গাটা যদি আলাদা করে দেন তাহলে ওরা ওদের জায়গাতে খেলবে। আর ওদের খেলার সরঞ্জাম ওদের দিয়েই গুছিয়ে নিন। ওদেরকে বুঝিয়ে বলুন ঘরটা গোছানো থাকলে সুন্দর দেখায়। দেখবেন ওরা একটু হলে ও বুঝবে এবং আপনাকে ঘর গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।

জিনিসপত্র ঠিকমত গুছিয়ে রাখলে দেখবেন আপনার সংসারটা কেমন ছিমছাম ও সুন্দর লাগছে। গোছানো ঘর আপনার মনে এনে দেবে প্রশান্তি। সারাদিনের পরিশ্রম শেষে ক্লান্ত শরীরে আপনি কিংবা আপনার প্রিয়জন যখন সাজানো গোছানো পরিপাটি ঘরটিতে ঢুকবেন, দেখবেন আপনার অজান্তে মনের কোণে এক টুকরো সুুখ দোলা দেবে। আপনার গোছানো সংসার দেখে আপনার নিজের চোখ জুড়িয়ে যাবে।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

সংসার, ব্যাস্ততা, কাপড়-ধোঁয়া, ধুলা-মোছা, গুছিয়ে-রাখা