সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

sugar_cane_juice.jpg

আখের স্বাস্থ্যগুণ আখের রস পানের উপকারিতা

গবেষকদের মতে এ রস শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্টের কাজ করে। শরীর থেকে ফ্রি-রেডিক্যাল্স দূর করে। এটি লিপিড পার-অক্সিডেশনকে বাঁধা দিতে সক্ষম।

গরমের সময় আখের ঠাণ্ডা রসের মজাই আলাদা। এটি শুধু গরমেই প্রশান্তি দেয় না পাশাপাশি নানা ধরনের রোগ থেকেও বাঁচায়। এই রস পানে আপনি প্রচুর শক্তি পাবেন। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকায় ডায়াবেটিসের রোগীর জন্য ভাল পানীয়। এটি আপনাকে ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা করবে। রয়েছে আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। জানব সেগুলো:

ত্বকের জন্য উপকারী: আখের রসে প্রচুর আলফা হাইড্রোক্সি এসিড এবং গ্লাইকোলিক এসিড থাকায় ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এটি শুধু ব্রণ কমায় না পাশাপাশি দাগও দূর করে। প্রতিদিন এক গ্লাস আখের রস পান করলে বয়সের ছাপ দেরিতে আসে। ইহা ত্বক আর্দ্র রাখতে সহায়ক।

ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা: প্রচণ্ড গরমে ডিহাইড্রেশন শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, লৌহ এবং ম্যাঙ্গানিজ থাকায় আখের রস ইলেক্ট্রোলাইট এবং পানির ঘাটতি পূরণ করতে পারে।

শক্তির ভাল উৎস: আখের রসে প্রচুর গ্লুকোজ থাকে। গ্লুকোজ ও অন্যান্য ইলেক্ট্রোলাইট মিলে শক্তিশালী পানীয় হিসেবে কাজ করে।

দাঁতের ইনফেকশন থেকে রক্ষা: এই রসে থাকা খনিজ পদার্থ, পটাশিয়াম এবং রস অ্যালকালাইন প্রকৃতির হওয়ায় ব্যাকটেরিয়ারোধী হিসেবে কাজ করে। ফলে দাঁতের ইনফেকশন হয় না।

কিডনির জন্য: আখের রসে প্রচুর প্রোটিন থাকায় তা কিডনিকে সচল রাখতে খুবই সহায়ক। এটির ভাল ব্যাকটেরিয়ারোধী ক্ষমতা রয়েছে। এই রস পানে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া দূর হয়।

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য: যদি আপনি মনে করেন আখের রস ডায়বেটিস রোগীর জন্য খারাপ তবে তা ভুল। ঠিক এতে গ্লুকোজ রয়েছে। কিন্তু এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম।

শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্ট: গবেষকদের মতে এ রস শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্টের কাজ করে। শরীর থেকে ফ্রি-রেডিক্যাল্স দূর করে। এটি লিপিড পার-অক্সিডেশনকে বাঁধা দিতে সক্ষম।

লিভারের সুস্থতা: আখের রস বিলিরুবিন এর পরিমাণ ঠিক করতে পারে। এজন্যই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা জন্ডিসের রোগীকে এই রস পানের পরামর্শ দেন। গবেষকদের মতে, এ রস লিভার ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষায় সহায়ক। প্রতিদিন এক গ্লাস রস পান করলে জন্ডিসের রোগী সুস্থ হবে। 

পরিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়তা: এতে থাকা পটাশিয়াম পরিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। পটাশিয়াম পেটের ইনফেকশন প্রতিরোধ করে ও পেরিস্ট্যালসিস সংশোধন করে।

ক্যান্সাররোধী: এক গবেষণায় জানা যায়, আখের রসে থাকা ফ্লাভোন ক্যান্সার কোষ উৎপাদন বাঁধাদানে সক্ষম!

আখের রস সহজেই পাওয়া যায়। তবে রাস্তার আশপাশে প্রাপ্ত রস কতটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন তা জানা জরুরি। অপরিষ্কার রস পানে হিতেবিপরীত হতে পারে। তাই সম্ভব হলে আখ কিনে এনে বাসায় তৈরি করবেন অথবা সরাসরি আখের রস খাবেন।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

আখের-রস, স্বাস্থ্যগুণ, আলফা-হাইড্রোক্সি-এসিড, ব্যাকটেরিয়ারোধী, এন্টি-অক্সিডেন্ট