সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

indian-bride-wallpaper.jpg

সংসার জীবন শ্বশুরবাড়ির মানুষগুলো যদি ভুল ভুঝে আপনাকে

মনে রাখবেন শ্বশুর বাড়ির পরিবারের অন্যান্যদের সম্পর্কে সরাসরি বদনাম করা আপনার দাম্পত্য জীবনে সুখ হারানোর কারণ হয়ে দাড়াতে পারে!

বিয়ে নিয়ে যতটা মেয়েরা ভাবে তার চেয়ে বেশি ভাবে বিয়ে পরবর্তী জীবন নিয়ে। শ্বশুরবাড়ির মানুষগুলোকে নিয়ে কমবেশি সব মেয়েরই চিন্তা থাকে। ভালোবেসে বিয়ে হোক আর পারিবারিক ভাবে বিয়ে হোক শ্বশুরবাড়ির মানুষগুলোকে নিয়ে সকল নারীর মনেই থাকে কিছু শঙ্কা।

পারবো তো তাদের সবার মন রক্ষা করে চলতে? ভালোবাসবে তো তারা আমাকে? এমন কতই না প্রশ্ন থাকে মনে। তবুও মাঝে মাঝে ভুল বুঝাবুঝির কারণে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।

মনে হয় শ্বশুরবাড়ির মানুষগুলোর মন রক্ষা করে চলতে পারছেন না। কি করা উচিৎ তখন আপনার? মনের মাঝে কাউকে নিয়ে ভুল ধারণা নিয়ে থাকাটা যেমন ভালো নয় তেমনি অন্যের মনে আপনাকে নিয়ে ভুল ধারণা জন্মাতে দেওয়াও ভালো নয়। তারপরও ভুল বুঝাবুঝি হয়েই যায় মাঝে মাঝে।

১। প্রথম ধাপ- আপনার স্বামীর সাথে কথা বলুন

স্বামী আপনার বন্ধু। যেই মানুষগুলোর সাথে আপনি নতুন করে পরিচিত তাদের সাথে তিনি বেশ আগে থেকেই পরিচিত। সুতরাং আপনার চেয়ে তাদের বেশি ভালো বুঝতে পারবেন আপনার স্বামী। তাকে বলুন আপনার মনে জমে থাকা কথাগুলো। আপনার কেন মনে মনে হচ্ছে যে আপনি পরিবারের অন্যদের মন রক্ষা করে চলতে পারছেন না, তা বলুন। শান্ত থাকুন।

মনে রাখবেন কখনই আপনার স্বামীকে এভাবে বলবেন না, “তোমার মায়ের কিছুই আমি বুঝি না। আমি যাই করি তার তাই খারাপ লাগে”, বরং এই কথাটিকেই গুছিয়ে বলুন, “আমার কেন যেন মনে হচ্ছে মা কোন কারনে আমার উপর অসন্তুষ্ট। উনার কিছু কথায় মনে হচ্ছে আমি কোন ভুল করছি"।

মূলকথা সরাসরি বদনাম করা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন শ্বশুর বাড়ির পরিবারের অন্যান্যদের সম্পর্কে সরাসরি বদনাম করা আপনার দাম্পত্য জীবনে সুখ হারানোর কারণ হয়ে দাড়াতে পারে!

তার উপর আস্থা রাখুন। এমন পরিস্থিতে একজন আদর্শ স্বামী অবশ্যই আপনাকে বুঝতে পারবে এবং সুন্দর সমাধান দেবেন কারন তার পরিবার সম্পর্কে আপনার ঢের ভালো তিনিই জানেন।

দ্বিতীয় ধাপ- ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন, ক্ষমা করুন, ভুলে যান

এবার না হয় আপনি নিজেই একটু মহৎ হলেন! হুম, যদি আপনার মনে হয় আপনার সব কিছু ঠিক থাকার পর ও শ্বশুরবাড়ির মানুষগুলো আপনাকে ভুল বুঝছে বা আপনি তাদের মন রক্ষা করে চলতে পারছেন না তাহলে নিজেকে শান্ত রাখুন।

তাদের ছোট খাটো ভুলগুলোকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন। তাদের যে কথাগুলো আপনার মনে আঘাত দিচ্ছে সেগুলো ভুলে যান। মন খারাপ করে না থেকে স্বাভাবিক ভাবে চলুন।

তৃতীয় ধাপ- তাদের চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করুন

আপনার শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর-ননদ কে কি চাইছে আপনার থেকে তা হয়ত আপনি জানেন না বা বুঝে উঠতে পারছেন না। চুপ করে না থেকে তাদের কাছে যান। তাদের সাথে আরো ভালোভাবে মিশতে চেষ্টা করুন। আপনার কোন ভালো কাজকে যদি তারা খারাপ ভেবে থাকে তবে তাদের সুন্দর করে যুক্তি দিয়ে বুঝান।

 না রেগে, হাসি মুখে তাদের সাথে কথা বলুন। বুঝতে চেষ্টা করুন তাদের চাহিদাগুলো। একটু তাদের প্রিয় হতে চেষ্টা করুন। তাদের পছন্দের খাবার রান্না করতে চেষ্টা করুন। তাদের পছন্দের কাজগুলো করুন।

 বুঝতে চেষ্টা করুন তারা আসলে কি চাইছে আর আপনার কোন ব্যাপারগুলোই বা তাদের খারাপ লাগছে। সেগুলোকে একটু বদলে ফেলুন। দেখবেন খুব তাড়াতাড়ি সবার মন জয় করে নিচ্ছেন আপনি।

 সংসার জীবনে ভুল বুঝাবুঝি বা মনোমালিন্য এসব থাকবেই। নিজের উপর আস্থা রাখুন। দেখবেন যেকোন কঠিন পরিস্থিতিই মোকাবেলা করতে সক্ষম হচ্ছেন আপনি।

রেফারেন্সঃ Francesca Di Meglio, (newlyweds expert)


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

শ্বশুরবাড়ি, মনরক্ষা, মানিয়ে-চলা, শাশুড়ি, স্বামী, রান্না, হাসিখুশি