সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Child-Emotions-Girl-Sad_News1.jpg

শিশু লালন পালন শিশুর বাজে অভ্যাস- শাসন নয়, চাই ভালোবাসা

আমরা বড়রাই অনেক সময় বুঝে উঠতে পারিনা কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল। সেখানে, ছোট শিশুরা না বোঝারই কথা। এজন্য শাসন নয় প্রয়োজন ভালোবাসা আর সঠিক পরিচর্যা।

ছেলেকে নিয়ে আজকাল বেশ চিন্তায় আছেন মিসেস রেহানা। সদ্য স্কুল পড়ুয়া ছেলেটা আজকাল স্কুল থেকে অন্যের পেন্সিল, বই নিয়ে আসছে। বাসায়ও এটা ওটা নিজের মত লুকিয়ে রাখছে। এসব নিয়ে প্রশ্ন করলেও অস্বীকার করে সে। ছেলেটা যে কোথায় থেকে এই চুরির অভ্যাসটা পেল, ভাবছেন মিসেস রেহানা।

উপরের প্রেক্ষাপটের কাহিনী কিন্তু আমাদের আশাপাশে অহরহ ঘটছে। ৩-১০ বছরের শিশুদের মাঝে নানা ধরনের বাজে অভ্যাস গড়ে উঠে হুট করেই। এগুলোকে কোন অপরাধের পাল্লায় ফেললে ভুল করবেন। আসলে ঐ বয়সে প্রায় ৯০ শতাংশ শিশুই বুঝেনা যে সে অপরাধ করছে।

কিন্তু আশাপাশের মানুষ তো আর এসব বুঝতে চায়না। ঠিকই হাসি ঠাট্টা করে এসব নিয়ে। আপনার সন্তানের মাঝে যদি হঠাৎ করেই এমন বদ অভ্যাসের দেখা পান, কি করবেন? লজ্জায় কাউকে কিছু না বলে তাকে মারবেন? ধমকাবেন? তবে এই লেখাটি পড়ে একটিবার ভাবুন কি করবেন আপনি।  

বুঝাতে হবে ভালোবেসেঃ সন্তান স্কুল বা অন্য কোথাও থেকে কিছু লুকিয়ে ফেললে তাকে সুন্দর করে বোঝান যে এই কাজটি খারাপ কাজ। তাকে ভালোবেসে সুন্দর ভাষায় বুঝিয়ে বলুন যে কাউকে কিছু না বলে নেওয়া উচিত নয়। দরকার হলে এই বুঝানোর কাজটি তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষকে দিয়ে করান।

নৈতিক গল্পগুলো তাকে শোনান। যে গল্পগুলোতে উঠে আসবে মিথ্যা, চুরি এ কাজগুলো মোটেও ভালো নয়। চুরি বা মিথ্যার অপরাধে সন্তানের গায়ে হাত তুলবেন না। এতে হিতের বিপরীত হতে পারে।

দায়িত্ব নিতে শেখানঃ অনেক শিশুর মাঝেই টাকা লুকানোর বাজে অভ্যাসটি দেখা যায়। আপনার সন্তান এমনটা করে থাকলে তার কাছেই টাকা জমা রাখুন। টাকার দায়িত্ব দিন তাকে। টুকটাক জিনিস কেনার পর আপনার পার্সের টাকার হিসেব তাকে দিয়েই করান। এবং, তাকেই বলুন ব্যাগ নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে। 

ভুলেও তাকে বুঝতে দিবেন না যে আপনি তাকে সন্দেহ করেছেন। বরং, তাকে বুঝাতে চেষ্টা করুন যে তার প্রতি আপনার বেশ বিশ্বাস রয়েছে।

নিয়ন্ত্রণ রাখুন নিজের মেজাজঃ অনেক শিশুর মাঝেই অতিরিক্ত রাগ দেখানোর বাজে অভ্যাস দেখা যায়। শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তাই একটু খেয়াল রাখুন আপনার বা আপনার আশেপাশের কারো রাগ দেখে আপনার সন্তান তা শিখছে কিনা। রাগ দেখালে তাকে ভদ্র ও ভালোবাসা মিশ্রিত ভাষায় বোঝান যে রাগ ভালো নয়।

লক্ষ্য রাখুন চারপাশেঃ অভিভাবক হিসেবে আপনার মূল দায়িত্ব হল সন্তানের পারিপার্শ্বিক অবস্থানের উপর নজর রাখা। তার আশেপাশের কারো কারনে কি তার মাঝে খারাপ প্রভাব পড়ছে? খেয়াল রাখুন গৃহপরিচিকার কোন বাজে অভ্যাস সে নিজের মাঝে আয়ত্ব করছে কিনা। স্কুলের বন্ধুরা কেমন সে দিকটাতেও একটু খেয়াল রাখুন।

সতেজ রাখুন তার মনঃ শিশুদের মস্তিষ্ক কখনোই আপনার মত পরিণত নয়। অনেক সময় অতিরিক্ত চাপে শিশুর মানসিক পরিবর্তন হয়ে যায়। আর তখন তার মনে ভর করে বাজে অভ্যাসগুলো। তাই আপনার সন্তানের মন সতেজ রাখুন। পড়াশোনার বাইরে সৃজনশীল কাজ করাতে উৎসাহ দিন। ছুটির দিনে পরিবারের সবাই মিলে বাইরে কোথাও ঘুরে আসুন। সম্ভব না হলে ঘরেই তাকে নিয়ে ছবি আঁকুন বা গাছ লাগান।

আমরা বড়রাই অনেক সময় বুঝে উঠতে পারিনা কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল। সেখানে, ছোট শিশুরা না বোঝারই কথা। এজন্য শাসন নয় প্রয়োজন ভালোবাসা আর সঠিক পরিচর্যা। সন্তানের পরিপুর্ন গড়ে উঠায় বাবা মায়ের বিকল্প নেই। তাই, অন্য কারো উপর নির্ভর না করে সন্তানকে নিজেই গড়ে তুলুন। বুঝিয়ে দিন তার ভুলগুলো। 

ছবিসুত্রঃ ইন্টারনেট


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

শিশু, বাজে-অভ্যাস, শাসন, ভালোবাসা, বুঝানো, বিশ্বাস, রাগ, যত্ন