সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

High-Blood-Pressure.jpg

চিকিৎসকের পরামর্শ হাইপারটেনশন বা হাই ব্লাড প্রেশার

রক্ত চাপ বুঝাতে সাধারনত ১২০/৯০ এভাবে বুঝানো হয়। এখানে ১২০ বা উপরের অংশ সিস্টোলিক (যখন হার্ট সংকুচিত হয় বা পাম্প করে) এবং ৯০ বা নীচের অংশ ডয়াস্টলিক (যখন হার্ট প্রসারিত হয় বা রক্ত গ্রহন করে)।

ডাক্তারের কাছে আসা ৯৫ ভাগ রোগীদের ইচ্ছে থাকে ব্লাড প্রেশারটা মাপিয়ে নেবার, রোগীর প্রেশারের সমস্যা থাক বা না থাক। প্রেশারের কম বা বেশী হওয়া নিয়েও প্রশ্ন থাকে সব চেয়ে বেশী। এ ব্যাপারে বলছি,  

প্রথমে গড় ব্লাড প্রেশার কিভাবে বের করবেন:
রক্ত চাপ বুঝাতে সাধারনত ১২০/৯০ এভাবে বুঝানো হয়। এখানে ১২০ বা উপরের অংশ সিস্টোলিক (যখন হার্ট সংকুচিত হয় বা পাম্প করে) এবং ৯০ বা নীচের অংশ ডয়াস্টলিক (যখন হার্ট প্রসারিত হয় বা রক্ত গ্রহন করে)।

প্রতিবার ব্লাড প্রেশার মাপার সময় ১ মিনিট বিরতি দিয়ে ২ বার মাপতে হবে এবং প্রতিদিন ব্লাড প্রেশার ২ বার মাপতে হবে ( সকালে ও সন্ধ্যায় ) এভাবে ৪ থেকে ৭ দিন ব্লাড প্রেশার মাপতে এবং লিখে রাখতে হবে।

প্রথম দিনের হিসাব বাদ দিয়ে বাকি দিনগুলির গড় বের করতে হবে, এই গড়টিই হবে আপনার গড় ব্লাড প্রেশার।

  • ১ম ষ্টেজ হাইপারটেনশন বা হাই ব্লাড প্রেশার: যদি আপনার ব্লাড প্রেশার ডাক্তারের কাছে ১৪০/৯০ বা তার বেশী থাকে এবং যদি আপনার গড় ব্লাড প্রেশার ১৩৫/৮৫ বা তার বেশী থাকে তবে আপনার ১ম ষ্টেজ (প্রাথমিক) হাইপারটেনশন বা হাই ব্লাড প্রেশার আছে।
  • ২য় ষ্টেজ হাইপারটেনশন বা হাই ব্লাড প্রেশার: যদি আপনার ব্লাড প্রেশার ডাক্তারের কাছে ১৬০/১০০ বা তার বেশী থাকে এবং যদি আপনার গড় ব্লাড প্রেশার ১৫০/৯৫ বা তার বেশী থাকে তবে আপনার ২য় ষ্টেজ (মধ্যম) হাইপারটেনশন বা হাই ব্লাড প্রেশার আছে।
  • ৩য় ষ্টেজ হাইপারটেনশন বা হাই ব্লাড প্রেশার: যদি আপনার ব্লাড প্রেশার ডাক্তারের কাছে উপরের অংশ বা সিস্টোলিক ১৮০ বা তার বেশী থাকে অথবা যদি নীচের অংশ ডয়াস্টলিক ১১০ বা তার বেশী থাকে তবে আপনার ৩য় ষ্টেজ (উচ্চ) হাইপারটেনশন বা হাই ব্লাড প্রেশার আছে।

এ পরিমাপটি ইউরোপিয় পদ্ধতি (NICE clinical guideline), আমরা সাধারনত এই পরিমাপ অনুসারে চিকিৎসা দেই। এছাড়া আমেরিকান একটি গাইডলাইন ও আছে।

আমেরিকান গাইডলাইন অনুসারে হাইপারটেনশন বা হাই ব্লাড প্রেশার হচ্ছে যদি আপনার উপরের অংশ বা সিস্টোলিক ১৪০ বা তার বেশী থাকে অথবা যদি নীচের অংশ ডয়াস্টলিক ৯০ বা তার বেশি থাকে, এবং এই বেশি ব্লাড প্রেশার কেবলমাত্র ১ বা তার বেশি সপ্তাহের ভেতর ২ বা তার বেশী বার মাপার পর পাওয়া যায় তবেই তাকে হাইপারটেনশন বা হাই ব্লাড প্রেশার বলা যায়।

হাইপারটেনশন বা হাই ব্লাড প্রেশার চিকিৎসা:

যদি আপনার ব্লাড প্রেশার উপরের অংশ বা সিস্টোলিক ১৪০ বা তার বেশী থাকে অথবা যদি নীচের অংশ ডয়াস্টলিক ৯০ বা তার কম থাকে তবে আপনার হাইপারটেনশন বা হাই ব্লাড প্রেশার নাই। তবে অন্তত প্রতি ৫ বছর পর পর আপনার ব্লাড প্রেশার মাপাতে হবে।

যদি আপনার ব্লাড প্রেশার উপরের অংশ বা সিস্টোলিক ১৪০ বা তার বেশী থাকে কিন্তু ১৬০ এর কম অথবা যদি নীচের অংশ ডয়াস্টলিক ৯০ বা তার বেশী কিন্তু ১০০ এর কম থাকে তবে আপনাকে আপনার গড় ব্লাড প্রেশার (প্রতিদিন ব্লাড প্রেশার ২ বার মাপতে হবে ( সকালে ও সন্ধ্যায় ) এভাবে ৪ থেকে ৭ দিন ব্লাড প্রেশার মাপতে এবং লিখে রাখতে হবে, প্রথম দিনের হিসাব বাদ দিয়ে বাকি দিনগুলির গড়) বের করতে হবে।

যদি গড় ব্লাড প্রেশার ১৩৫/৮৫ বা তার বেশী থাকে তবে আপনার প্রাথমিক হাইপারটেনশন বা হাই ব্লাড প্রেশার আছে। সেক্ষেত্রে আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডাক্তার কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হবেন আপনার হার্টের বা কিডনী বা ডায়াবেটিস আছে কি না। যদি অন্য সমস্যা ছাড়া কেবলমাত্র প্রাথমিক হাইপারটেনশন বা হাই ব্লাড প্রেশার থাকে তবে কোন ওষুধের প্রয়োজন নেই শুধু জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করে (সুষম খাদ্য, ব্যায়াম) প্রাথমিক হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব।

প্রাথমিক হাইপারটেনশনের সাথে অন্য সমস্যা থাকলে অথবা বয়স ৭০ এর বেশী হলে ডাক্তারের পরামর্শ মত ওষুধ খেতে হবে।

তবে প্রাথমিক হাইপারটেনশন যদি ৪০ এর কম বয়সে দেখা যায় তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

হাইপারটেনশন, হাই-ব্লাড-প্রেশার, রক্ত-চাপ, চিকিৎসকের-পরামর্শ, সিস্টোলিক, ডয়াস্টলিক, আমেরিকান-গাইডলাইন