সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Healthy-Heart.jpg

সুস্থ হার্ট যেভাবে আপনার হার্টকে সুস্থ রাখতে পারেন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার(WHO) ২০১৪ সালে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে বাংলাদেশে হার্টের রোগের কারনে মৃত্যুর সংখ্যা বছরে প্রায় ৫০.৭ হাজার এবং এই হার বর্ধনশীল।

হৃদরোগ বলতে সাধারণত হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে এমন রোগকে বোঝায়। এর মধ্যে কিছু রোগ রয়েছে যেগুলো হার্টের রক্তনালীর সমস্যার কারনে সৃষ্টি হয়। যেমন: হার্টের রক্তনালীতে প্রতিবন্ধকতা (block), হার্ট অ্যাটাক ইত্যাদি। আবার কিছু রোগ রয়েছে হার্টের তাল (rhythm) এর সমস্যার কারণে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ২০১৪ সালে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে বাংলাদেশে হার্টের রোগের কারনে মৃত্যুর সংখ্যা দেখানো হয়েছে বছরে প্রায় ৫০.৭ হাজার এবং এই হার বর্ধনশীল। হার্টের রোগে মূল যে বিষয়গুলো নিয়ামক হিসেবে কাজ করে তার মধ্যে রয়েছে - খাদ্যাভ্যাস, ভৌগলিক অবস্থান, লিঙ্গ, শারীরিক গঠন, মানসিক অবস্থা ইত্যাদি।

অবহেলার কারণে একবার রোগ হয়ে গেলে শারীরিক সমস্যা তো আছেই, সাথে আছে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা। কারণ, হার্টের রোগের চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যয়বহুল। তাই আমরা যদি খাদ্যাভ্যাস ও জীবন-যাপনে একটু পরিবর্তন আনি। তাহলে এই জটিল রোগ থেকে অনেকাংশেই দূরে থাকতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

আর আপনার যদি হার্টের রোগ হয়েই যায়, তবে সে ক্ষেত্রেও নিচের পরামর্শগুলো আপনার কাজে লাগবে বলে আশা করি। এবার আসুন জেনে নিই হার্টকে সুস্থ রাখার কিছু কার্যকরী পরামর্শ:

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন:
আপনাকে সব মজার খাবার ত্যাগ করতে হবে এমন না। তবে খাবার নির্বাচনে যে বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রাখবেন তা হল:
  • কম চর্বি যুক্ত খাবার
  • কম লবণযুক্ত খাবার
  • বেশি আঁশযুক্ত খাবার
  • কম ক্যালরির খাবার
  • কম কোলেস্টেরলপূর্ণ খাবার
তবে চর্বিযুক্ত খাবার একবারে ত্যাগ করবেন না, বরং চর্বির উৎসে পরিবর্তন আনতে পারেন। মাংসের চেয়ে মাছ, বাদাম, ভেজিটেবল অয়েল এইসব বেশি খান। কারণ এই চর্বিগুলোতে উপকারি ফ্যাটি এসিড ওমেগা-৩ থাকে যা হার্টের জন্য উপকারি।

মাংস গ্রিল করে চর্বি ঝরিয়ে নিতে পারেন। এতে খারাপ চর্বি কমে যাবে। চিনিযুক্ত কার্বনেটেড পানীয় পরিহার করে চলুন। এই সব কোমল পানীয় যতই মুখরোচক হোক, তা শরীরের জন্য কোন ভাবেই উপকারি নয়। শাকসবজি ও মৌসুমি ফলমূল বেশি করে খান। নিয়মিত বাদাম খান। কারণ এটা হার্টের জন্য টনিকের মত কাজ করবে।

ধূমপান পরিত্যাগ করুন:
আপনার জেনে অবাক লাগতে পারে যে, ধূমপান হার্টের রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। সিগারেটে বিদ্যমান নিকোটিন আমাদের হার্টের নরম ও মসৃণ রক্তনালিকে অমসৃণ করে ফেলে। ফলে ক্ষুদ্র চর্বিকণাসহ অন্যান্য পদার্থ রক্তনালির গায়ে লেগে গিয়ে হার্টের বিশেষ অঞ্চলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত করে। এক সময় তা বৃদ্ধি পেয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং হার্ট অ্যাটাক ঘটায়।

হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে হার্টের নির্দিষ্ট জায়গায় রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে সেখানকার হ্রদকোষ মারা যাওয়া।   

নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন:
স্বাভাবিক অবস্থায় ১২০/৮০ (mm HG) কে স্বাভাবিক রক্তচাপ ধরা হয়। রক্তচাপ খুব কম বা বেশি হলে আপনার আপনার হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন।   

শরীরের কোলেস্টেরল লেবেল নিয়মিত পরীক্ষা করুন:
আপনার পরিবারে যদি হার্টের অসুখের ইতিহাস থাকে তবে রক্তের কোলেস্টেরল লেবেল নিয়মিত পরীক্ষা করুন। কারণ রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল উচ্চ ঝুঁকি নির্দেশ করে।

ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুন:
আপনার উচ্চতা অনুযায়ী ওজন ঠিক আছে কিনা দেখে নিন। একে BMI (Body Mass Index) বলে। সাধারণত ২৫ বা এর কম BMI স্বাভাবিক ধরা হয়। খুব বেশি বিএমআই হার্টের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ইন্টারনেটে সার্চ করে খুব সহজেই নিজের বিএমআই জানতে পারবেন। আজকাল এই ধরনের অ্যাপও পাওয়া যায় প্লে স্টোরে।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন:
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম আপনাকে হার্টের অসুখের যে নিয়ামকগুলো রয়েছে, যেমন: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অধিক ওজন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করবে। যাদের জিমে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তারা যেতে পারেন। অন্যরা ফজরের পরে বা বিকাল বেলা অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন। কম দূরত্বে যানবাহনের পরিবর্তে পায়ে হেঁটে যান। বাসায় নিয়মিত পুসআপ ও ওয়েট লিফটিংও করতে পারেন। সর্বোপরি, শরীরকে সচল রাখুন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখুন:
আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে তাহলে অবশ্যই তা নিয়ন্ত্রনে রাখুন। কারণ, উচ্চ ব্লাড গ্লুকোজ হার্টের অসুখের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।  

মানসিক চাপ মুক্ত থাকুন:
মানসিক চাপ হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। মানসিক চাপ মুক্ত থাকা কঠিন হলেও অসম্ভব না। একসঙ্গে অনেক কাজ মাথায় নিবেন। প্রাত্তহিক কাজের একটা রুটিন করে ফেলুন। না মানতে পারলেও রুটিন করুন। দেখবেন অনেক সময় বাঁচাতে পারছেন। নিয়মিত সালাত আদায় করুন। সালাত মানসিক প্রশান্তির জন্য কার্যকরি টুল। সব দুশ্চিন্তা সৃষ্টিকর্তার উপর দিয়ে চাপ মুক্ত হন।  

স্বাস্থ্য সচেতন হোন:
সুস্থ থাকার জন্য স্বাস্থ্য বিষয়ক জ্ঞানের বিকল্প নেই। বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে তথ্য আমাদের দ্বারগোঁড়ায় এসে হাজির, শুধু দরকার তাকে খুজে নেয়া। নিয়মিত স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাগাজিন, বই ইত্যাদি পড়তে পারেন। আর সম্ভব হলে কিছু রুটিন চেক আপ নিয়মিত করান। যেমন: ব্লাড টেস্ট, ব্লাড গ্লুকোজ, কোলেস্টেরল ইত্যাদি।

পরিশেষে বলতে চাই, সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন।

-
লেখক: শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। 
তথ্যঋণ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিসংখ্যান প্রফাইল - বাংলাদেশ(২০১৪), মায়োক্লিনিক.অর্গ, এন আই এইচ, ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন, ড্রাগস.কম     
এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

হার্ট, পরামর্শ, হৃদরোগ, হার্ট-অ্যাটাক, ধূমপান, কোলেস্টেরল, ওজন-নিয়ন্ত্রন, ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, খাদ্যাভ্যাস