সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

know-before-vaccination.jpg

শিশুর সুরক্ষা বাচ্চাকে টিকা দেয়ার পূর্বে যে বিষয়গুলো জানা আবশ্যক

টিকাদানের মুল উদ্দেশ্য বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু অসচেতন ভাবে টিকা দিলে অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের ক্ষতির আশংকা রয়েছে। তাই শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সচেতনতা আবশ্যক।

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই শ্রেয়, এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই প্রতিবছর বাচ্চাদের টিকাদান কর্মসূচী পালন করা হয়। এই কর্মসূচী আসলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ১৯৭৭ সালে গৃহীত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচী (The Expanded Programme on Immunization) এর আলোকে পালন করা হয়। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও আমরা অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চাদের টিকা দানের ব্যবস্থা করি।

সাধারণত টিকাদানের ফলে বাচ্চারা মারাত্মক সব রোগ যেমন: পোলিও, হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হেপাটাইটিস বি, গুটি বসন্ত ইত্যাদি রোগ থেকে নিরাপদ থাকে।। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, টিকাদানের পরবর্তী সময়ে বাচ্চারা নানা ধরনের সাময়িক ও দীর্ঘ মেয়াদী শারীরিক জটিলতায় ভোগে, যেমন: অ্যালার্জি, জ্বর, মাংসপেশিতে ব্যাথা, খিচুনি ইত্যাদি। অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে।

অথচ অবিভাবক হিসেবে আমরা একটু সচেতন হলেই আমাদের আদরের সন্তানটিকে টিকাদান পরবর্তী নানা শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্ত রাখতে পারি।

বিশ্বের সব চেয়ে আলোচিত খাদ্য ও ঔষধ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান আমেরিকান ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (US-FDA) এই বিষয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। আর সাধারণভাবে কিছু নির্দেশনা তো আছেই। সুতরাং, আসুন জেনে নিই বিষয়গুলো কি কি:

  • টিকাদানের পূর্বেই জেনে নিন টিকাটির কি কি পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া আছে। আর আপনার বাচ্চার সেগুলো সহ্য করার মত শারীরিক সক্ষমতা আছে কি না, তাও যাচাই করে নিন। সত্যিকার অর্থে প্রত্যেক ঔষধেরই ক্ষতিকর দিক রয়েছে কিন্তু ক্ষতির চেয়ে লাভের অংকটা বেশি হওয়ার কারণে ঔষধ ব্যবহার করা হয়।
  • আপনার বাচ্চার যদি অ্যালার্জির সমস্যা থাকে তবে কর্তব্যরত ডাক্তারকে আগেই তা অবহত করুন। বিশেষ করে যদি আপনার শিশুর ডিমে বেশি পরিমাণ অ্যালার্জি থাকে, তাহলে অবশ্যই জানান। কারণ, অনেক ভ্যাকসিন তৈরি করতে ডিম ব্যবহার করা হয় ,যেমন: ইনফ্লুয়েঞ্জা (flu) ভ্যাকসিন। তাই এটা মারাত্মক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
  • ভ্যাকসিন যে ভায়ালে করে সরবরাহ করা হয় তাতে অনেক ক্ষেত্রেই রাবার লাটেক্স বিদ্যমান থাকে। তাই যাদের রাবার লাটেক্স এর প্রতি সংবেদনশীলতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই পূর্ব হতেই ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিতে হবে।
  • ভ্যাকসিন গ্রহনের সময় খেয়াল করুন কাচের বোতলটি ঘোলাটে হয়ে গিয়েছে কিনা। কারণ, পরিবহনের তাপমাত্রা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রন না করলে ভ্যাকসিন ঘোলাটে (turbid) হয়ে যেতে পারে, যা ব্যবহার করা শুধু ক্ষতিকরই নয় এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। সঠিক অবস্থায় বোতলটির তরল হবে স্বচ্ছ এবং ভেতরে কোন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণাও চোখে পড়বে না।  
  • এরপরও কোন সমস্যা দেখা দিলে সাথে সাথে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান।

সচেতন হন, সুস্থ থাকুন।  


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

গুটি-বসন্ত, হেপাটাইটিস-বি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাম, পোলিও, পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া, প্রতিকার, প্রতিরোধ, সচেতনতা, টিকা, সুরক্ষা, শিশু