সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Vitamins-for-Tooth-Care.jpg

দাঁতের যত্ন জেনে নিন দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায় ৫টি শীর্ষ ভিটামিন সম্পর্কে

আমরা যেসব খাবার খাই দাঁতের সুস্থতার উপর সেগুলোর প্রভাব পড়ে। কারন সঠিক পুষ্টি উপাদানের অভাবে দাঁতের ক্ষয় বেড়ে যায় এবং মাড়ি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।

সুস্থ মাড়ি শুধুমাত্র যে হাসির সৌন্দর্য রক্ষার জন্যই প্রয়োজন তা নয় মুখ গহ্বরের সুস্থতার জন্যও প্রয়োজন। মুখ আমাদের দেহের প্রবেশ দ্বার হিসেবে কাজ করে। যদি মুখের ভেতর অস্বাস্থ্যকর থাকে তাহলে তার প্রভাব শরীরের উপরও পড়ে। তাই এর সঠিক যত্ন নেয়া খুবই প্রয়োজন। সুস্থ দাঁত ও মাড়ির জন্য পর্যাপ্ত পরিমান ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ অত্যন্ত প্রয়োজন।

ভিটামিন দেহকে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এটি প্রতিরোধক ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে দেহকে রোগ থেকে দূরে রাখতেও সাহায্য করে। সাধারণত প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাবে মাড়ি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। আমরা যেসব খাবার খাই দাঁতের সুস্থতার উপর সেগুলোর প্রভাব পড়ে। কারন সঠিক পুষ্টি উপাদানের অভাবে দাঁতের ক্ষয় বেড়ে যায় এবং মাড়ি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।

এখানে দাঁত ও মাড়ির সুস্থতা রক্ষার্থে এবং পরিচর্যার জন্য ৫টি শীর্ষ ভিটামিন সম্পর্কে জানাচ্ছি:

  • ভিটামিন এ: ভিটামিন এ মাড়িতে থাকা নরম হাড়ের সংযোজক কোষ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মাড়িকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং মুখের ভেতরে লালার প্রবাহ নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে। ভিটামিন এ এর উত্তম উৎস হচ্ছে সবুজ শাকসবজি, গাজর, আম, মিষ্টি আলু এবং মাছের তেল।
  • ভিটামিন বি: ভিটামিন বি সামগ্রিকভাবে মুখের ভেতরের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি জিহ্বার প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করে। ভিটামিন বি ব্যাপকভাবে পাওয়া যায় ডাল জাতীয় বীজে, মাংসে, মটরশুটিতে এবং বিভিন্ন সবুজ সবজিতে।
  • ভিটামিন সি: ভিটামিন সি মাড়িকে শক্তিশালী করে এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ তৈরি করে। এটি যেকোনো প্রদাহের আরোগ্যকরণের প্রক্রিয়ার গতিকে দ্রুত করে। এই ভিটামিনের অভাবে মাড়িতে প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং রক্তপাতও হতে পারে। ভিটামিন সি এর বেশ কিছু ভালো উৎস হচ্ছে বেরি ফল, তরমুজ, বাঙ্গি, আমলকি, পেয়ারা, কমলা, লাল মরিচ, জাম্বুরা, আমড়া, টক জাতীয় ফল ইত্যাদি।  
  • ভিটামিন ডি: ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। এটি হাড় ও দাঁতের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেহে পর্যাপ্ত পরিমান ভিটামিন ডি থাকলে তা মাড়িকে শক্তিশালী করে এবং মাড়ির প্রদাহের রোগ জিনজিভাইটিস এর ঝুঁকি কমায়। ভিটামিন ডি এর একটি সাধারণ উৎস হচ্ছে সূর্যালোক। এছাড়া ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার হচ্ছে ডিম, দুধ এবং মাছ।
  • ভিটামিন কে: ভিটামিন ডি রক্ত জমাট বাধার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন এটি রক্ত জমাট বাধার ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। মাড়িতে রক্তপাতের প্রধান কারন হলো দেহে ভিটামিন কে এর অভাব। যার অভাবের ফলে মুখ গহ্বরের স্বাস্থ্যের অবস্থাও খারাপ থাকে। সয়াবিন এবং সবুজ শাকসবজি হচ্ছে ভিটামিন কে এর সমৃদ্ধ উৎস।  

-
লেখক: জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ; এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্‌থ; খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান (স্নাতকোত্তর) (এমপিএইচ); মেলাক্কা সিটি, মালয়েশিয়া।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

দাঁত, মাড়ি, সুরক্ষা, ভিটামিন, যত্ন, সুস্থতা, পরিচর্যা, রোগ, আক্রান্ত, পুষ্টি, খাবার, খনিজ-পদার্থ, জিনজিভাইটিস