সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

domestic-insects-prevention.jpg

জেনে রাখুন পোকামাকড়ের যন্ত্রণা থেকে দুরে থাকার সহজ উপায়

আপনি সচেতন না থাকলে বা পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে আপনার মতোই পোকামাকড়েরা ঘরবসতি গড়ে তুলবে আপনার সংসারে।

গৃহিনীর সংসার জীবনে যন্ত্রনার আরেক নাম পোকামাকড়। আপনি সচেতন না থাকলে বা পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে আপনার মতোই পোকামাকড়েরা ঘরবসতি গড়ে তুলবে আপনার সংসারে। এক পর্যায়ে পোকামাকড়ের যন্ত্রণায় অতিষ্ট হয়ে উঠবে আপনার জীবন সংসার।

তাই পোকামাকড় থেকে দূরে থাকুন। পোকামাকড়কে দূরে রাখুন। জেনে নিন কিছু সহজ উপায়:
  • প্যারাফিন বেজায় অপছন্দ পিঁপড়াদের। প্যারাফিনে তুলো ভিজিয়ে পিঁপড়ার গর্তে কিংবা যাতায়াতের রাস্তায় রাখুন। আর আসবে না।
  • মাছির হাত থেকে রেহাই পেতে পুদিনা বেটে বাটিতে রাখুন। খাবার জায়গায়, রান্নাঘরে, যেখানি মাছি বেশি সেখানে বাটিটি রাখুন।
  • পিঁপড়ার যাতায়াতের রাস্তায় আর তাদের গর্তে বোর‌্যাক্স পাউডার বা সোহাগা ছড়াতে পারেন। কমে যাবে।
  • নিমপাতা পুড়িয়ে বাড়ির চতুর্দিক ধুনো দেওয়ার মতো করে দিন। মশা তো যাবেই, সঙ্গে অন্যান্য পোকামাকড়ও কমবে।
  • উকুন থেকে বাঁচতে ৫০০ গ্রাম কাস্টার্ড আপেল পানি দিয়ে বেটে মসৃণ করে নিন। মাথায় লাগান হেয়ার প্যাক হিসেবে। ৪৫ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন।
  • হাতের কাছে তুলসী পাতা আছে। রাত্রে বেটে মাথ্যায় লাগান। সকালে উঠে শ্যাম্পু করে ফেলুন। উকুন গায়েব।
  • বাড়ি যদি নীচের তলায় হয় তা হলে সমস্যা বেশি পোকামাকড়ের। কেঁচো বা শামুক বা শুঁয়োপোকার আসা বন্ধ করার জন্য পেঁয়াজের রসে এক চিমটে কর্পূর দিন। যে জায়গায় দিয়ে এগুলি ঢোকে সেই সব জায়গায় এই রস মাখিয়ে রাখুন। পোকামাকড়ের ঢোকা বন্ধ হয়ে যাবে।
  • ঘর মোছার সময় কর্পূর দিয়ে মুছলেও পোকার উপদ্রব কমবে।
  • নিমপাতার উপকারিতার শেষ নেই। নিমপাতা বেটে বা থেঁতো করে ঘর মোছার পানিতে ফেলুন। ঘর মুছুন। বাকি পানি নর্দমা বা বাইরে ছড়িয়ে দিন। কেঁচো ইত্যাদি আসবে না। 
  • সূর্যাস্তের আগে একটি শুকনো থালায় নিমপাতা পুড়িয়ে বাড়ির চারদিকে ছড়িয়ে দিন। পোকামাকড় দ্রুত হারে কমে যাবে।
  • গর্ত, নর্দমা, পাইপের মুখে সামান্য করে কেরোসিন ছড়িয়ে রাখুন। যে সব পোকামাকড় বেয়ে ওঠে তাদের আসা কমে যাবে।
  • ঘর মোছার সময় ইউক্যালিপটাস পানিতে দু'ফোটা দিলে মশার উপদ্রব অবশ্যই কমবে।
  • আরশোলার সমস্যা নেই এমন বাড়ি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ঘর ও জানালার ধারে তারপিন তেল ছড়ান। আরশোলা কমবে।
  • শসা খেলে খোসা ছাড়িয়ে খান। খবরদার ফেলবেন না। দেওয়ালের ধার দিয়ে খোসা ছড়িয়ে দিন। চার পাঁচদিন এইভাবে করবেন। আরশোলার টিকিটিও দেখতে পাবেন না।
  • একটা প্লেটে দুধ চিনি গুলে তাতে বোরিক পাউডার দিন। রান্নাঘরে সব কাজের শেষে আলো বন্ধ করে দিন। পর পর কয়েক বার করুন। তবে একই জায়গায় প্লেটে রাখবেন না। দেখুন আরশোলা সব শেষ।
  • অন্ধকার কোণগুলো শুকনো করে মুছে তাতে হলুদের গুড়ো ছড়ান। আরশোলা আর ফিরেও আসবে না।
  • রাতে ড্রেন এ কয়েকফোঁটা কেরোসিন ঢালুন। দিনে ঘরমোছার সময়ে পানিতে কয়েকফোঁটা কেরোসিন ফেলুন। আরশোলা তো বটেই, অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রবও কমবে।
  • বাড়িতে যদি বিয়ার এসে থাকে আর তা যদি ফ্যাট হয়ে গিয়ে থাকে, ফেলে দেবেন না। একটি প্লেটে রান্নাঘরে রাখুন। আরশোলা নিধনের বড় অস্ত্র।
  • বাড়িতে মশার ম্যাট ব্যবহার করেন। তাতে কয়েক ফোটা ইউক্যালিপটাস তেল ফেলে ঘরের কোণে, জানালার উপরে রেখে দিন। আরশোলা পালাবে।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

পোকামাকড়, যন্ত্রণা, মুক্তি, উপায়, গৃহিনী, সংসার, পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন, সচেতনতা